বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও একলাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পাশাপাশি দেবর শাশুড়িকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিল। ট্রাইব্যুনাল মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের সতকর গ্রামের আবদুল হামিদ দর্জির ছেলে মো. নুরুজ্জামান। অন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন তার আপন ভাই মো. রিয়াজ ও মা মোসাম্মাত আরবজান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা উপজেলার জ্ঞানপাড়া গ্রামের মো. রুস্তম আলী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করেন, তার মেয়ে নাদিরা আকতারকে ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুরুজ্জামানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নাদিরার নিকট যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করে আসছে। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করেও নাদিরা স্বামীর সংসার করছিল। ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নাদিরার কাছে আবারও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। নাদিরা যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে নুরুজ্জামান নাদিরাকে গলাটিপে হত্যা করে। অপর আসামিরা নাদিরার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।
মামলার বাদী নিহত নাদিরার বাবা রুস্তম আলী বলেন, আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে।
রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন তোফাজ্জাল হোসেন তালুকদার।
মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী তোফাজ্জল হোসেন তালুকদার বলেন, রায়ের বিষয়ে আমার মক্কেলের সাথে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।