এ সময়ে ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। ক্যারিয়ারে প্রথম নাটক রেদোয়ান রনির ‘ইউটার্ন’-এ মাদকাসক্ত এক মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেই নজর কাড়েন। এরপর অসংখ্য নাটকে তার প্রাণবন্ত অভিনয় শুধু দর্শক নয়, অনেক তারকারও মন জয় করেছে। সাবিলাকে বলা হয় তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী অভিনেত্রী। তার জনপ্রিয়তার জন্যই ক্লোজআপ কাছে আসার গল্পের নাটকে টানা চারবার অভিনয় করেছেন তিনি। এখন ঈদের নাটকের কাজ নিয়ে তুমুল ব্যস্ততা রয়েছে তার। তবে এর মধ্যেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে ভক্তদের নতুন উপহার দিতে ভোলেননি তিনি। একটি-দুটি নয়, চারটি বৈশাখী নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এরমধ্যে এ সময়ে ছোটপর্দার আরেক আকর্ষণ আফরান নিশোর সঙ্গেই দুটি নাটক করেছেন। একটির নাম ‘টেইলর’, অন্যটির নাম ‘একটি পুরনো দিনের গল্প’। দুটি নাটক নির্মাণ করেছেন যথাক্রমে কাজল আরেফিন অমি ও রুপক বিন রউফ। এই নাটক দুটি নিয়ে সাবিলা বলেন, ‘টেইলর নাটকের গল্প সত্যি অন্যরকম। একজন দর্জির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটকটি। আর একটি পুরনো দিনের গল্প নাটকে আমি আর নিশো ভাই মফস্বলের সহজ-সরল দুজন মানুষ। এই নাটকের শ্যুটিং অবশ্য বেশ আগেই করেছিলাম। কিন্তু নাটকটি পহেলা বৈশাখেই প্রচার হবে বলে শুনেছি।’
এছাড়া ‘লাভ এডমিশন’ নাটকে সাবিলা অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুবের বিপরীতে। এটি একেবারেই ঢাকা শহরের গল্প। রোমান্টিক নাটক বলতে যা বোঝায়। তবে এই নাটকের অনেকটা অংশ জুড়ে কমেডি রয়েছে।
বাস্তবে সাবিলাকে যারা চেনেন তারা জানেন যে তিনি একেবারেই ইন্ট্রোভার্ট একটি মানুষ। মানুষের সঙ্গে খুব বেশি মিশতে পারেন না। ভদ্রতা বজার রাখতে যতটুকু করতে হয় অতটুকুই। কিন্তু বরাবরই পর্দায় কমেডি সিনে তিনি জ¦লে ওঠেন। এই দ্বিমূখী চিত্র কীভাবে হয় জানতে চাইলে সাবিলার স্বতঃস্ফূর্ত উত্তর, ‘মানুষকে হাসানো কিন্তু সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাই অন্য সিনের চেয়ে কমেডি সিনে আমি বেশি মনোযোগী হই। তবে এ জন্য আমি আলাদা প্রস্তুতি নিতে চাই না। কারণ কমেডি সিন সবচেয়ে ভালো হয় অন দ্য স্পট করলে। তাহলে স্বাভাবিক ফিলটা পাওয়া যায়। আমি একেবারেই ন্যাচারালি কাজটি করি। আর দ্বিতীয়ত, আমি খুব চুপচাপ হলেও আমার ভেতরকার আমি জেগে ওঠে কমেডি অভিনয়ের ক্ষেত্রে। তাই হয়তো এ ধরনের চরিত্রে আমি আলাদা সাড়া পাই।’
এদিকে, এক সময় সাবিলাকে নিয়মিত বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও এখন খুব একটা পাওয়া যায় না। সারা বছর বাছাই করে দু-একটা বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। এবার একটি আন্তর্জাতিক মোবাইল কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হলেন তিনি। তবে পণ্যের নামটি তিনি এখনই বলতে চাননি। গত ২৭ ও ২৮ মার্চ দুবাইয়ে শ্যুটিং হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন সার্বিয়ার পরিচালক পিটার প্যাসিক। তিনি আমেরিকায় বিজ্ঞাপন ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। সাবিলা বলেন, ‘সার্বিয়া থেকে সিনেমাটোগ্রাফার, সহকারী পরিচালক ছিলেন সাউথ আফ্রিকা থেকে, মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন ভারত ও ব্রাজিল থেকে। আর আমার সঙ্গে দুবাইয়ের একজন সহশিল্পী ছিলেন।’
কীভাবে এই বিজ্ঞাপনে যুক্ত হলেন? সাবিলার উত্তর, ‘পাঁচ-ছয় মাস আগে এই প্রতিষ্ঠানের একটি পণ্যের অনলাইন ভিডিও কমার্শিয়ালে কাজ করেছিলাম। অনলাইনে ভালো সাড়া পেয়েছিল। এরপর পণ্যটি নিয়ে কিছু কাজের জন্য নতুন করে আমার সঙ্গে ছয় মাসের চুক্তি করেছেন তারা। সেই চুক্তির প্রথম কাজ এই বিজ্ঞাপন।’ সাবিলা জানান, ঈদে পণ্যটি বাজারে আসবে। তখন প্রকাশিত হবে বিজ্ঞাপনটি।