মুন্সীগঞ্জে পিরামিড আকৃতির ‘বৌদ্ধ স্তুপ’

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরে পিরামিড আকৃতির ‘বৌদ্ধ স্তুপ’ আবিস্কৃত হয়েছে। এছাড়া সদরের বল্লাল বাড়ি এলাকায় প্রাচীন বসতির আলামত মিলেছে। নাটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে আবিষ্কৃত ‘বৌদ্ধ স্তুপ’কে দেশের বৃহত্তম বৌদ্ধ স্তুপ বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নাটেশ্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুন্সীগঞ্জে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। এর আগে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ প্রত্ননিদর্শনগুলো ঘুরে দেখেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এই অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু প্রমুখ।

ড. মোস্তাফিজুর বলেন, ‘নাটেশ্বরের বৌদ্ধ স্তুপটি ভারতবর্ষের বড় বড় স্তুপ যেমন— সাঁচি, ভারহুত, অমরাবতীর সমগোত্রীয়। বৌদ্ধ স্তুপ মানে বৌদ্ধ ধর্মের সমাধি। আবার বৌদ্ধ ধর্মের চর্চা কেন্দ্রও।’ তিনি বলেন, ‘বৌদ্ধ স্তুপের পূর্ব-পশ্চিম প্রলম্বিত উত্তর বাহুটি ৪৩ দশমিক ৫ মিটার পাওয়া গেছে। যার উচ্চতা ৪৩ মিটার। আবিষ্কৃত পিরামিড আকৃতির বৌদ্ধ স্তুপ বিক্রমপুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।’

তিনি জানান, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রত্ন-খননের মধ্য দিয়ে ২০১৩-২০১৮ পর্যন্ত ৫ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকা উন্মোচিত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৮-১৯ সালের খননে এই বৌদ্ধ স্তুপ আবিষ্কৃত হলো। এর আগে সদরের রামপাল ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামে ৬টি বৌদ্ধ ভিক্ষু কক্ষ, একটি মণ্ডপ ও পঞ্চস্তুপ আবিষ্কৃত হয়। ২০১৩ সাল থেকে নাটেশ্বর দেউলে বৌদ্ধ মন্দির, অষ্টকোণাকৃতি স্তুপ, ইট নির্মিত রাস্তা, ইট নির্মিত নালা প্রভৃতি আবিষ্কৃত হয়।