মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত সপ্তাহে হেলিকপ্টার দিয়ে চালানো সামরিক অভিযানে প্রায় ৩০ রোহিঙ্গা নিহতের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। অপরদিকে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হামলায় একই রাজ্যে সেনাবাহিনীর একটি স্কোয়াডের সব সদস্য নিহত হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বেসামরিক রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি দল বাঁশ সংগ্রহ করার সময় হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই হামলায় ছয়জন নিহত ও তারা ওই অঞ্চলের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সহায়তা দিচ্ছিল। কিন্তু
জাতিসংঘ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জেনেভায় স্থানীয় সময় গত সোমবার (বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, তারা (মিয়ানমারের সেনাবাহিনী) নিহতদের যে সংখ্যা বলছে প্রকৃতপক্ষে হতাহত তার চেয়ে বেশি। আমরা জানতে পেরেছি, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩০।’
গত শুক্রবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিচালিত দৈনিক মায়াবতী পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুথিডং শহরতলিতে চালানো ওই হামলায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত আরাকান আর্মির ছয় সদস্য নিহত হয়েছে। তবে নিহতরা নিজ দলের সদস্য বা সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিন থু ক্য। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, জঙ্গলে আরাকান আর্মির সদস্যরা ছড়িয়ে রয়েছে সন্দেহে তারা (সামরিক বাহিনী) সব জায়গায় বোমা হামলা চালায়।
রয়টার্সের পক্ষ থেকে ওই এলাকার কয়েক বাসিন্দা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানান, সাই দিন নামক ঝরনার কাছ থেকে বাঁশ সংগ্রহকালে ওই বেসামরিক নাগরিকরা নিহত হয়।
এদিকে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, গত শুক্রবার বুথিডংয়ে এক অভিযানকালে আরাকান আর্মির সদস্যদের হামলায় সেনাবাহিনীর একটি স্কোয়াডের সব সদস্য নিহত হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ মি তুন জানান, ক্যাপ্টেন চিট কো কো’র অধীনে একটি দলের সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষ হয়। এতে ওই ক্যাপ্টেনসহ দলের সব সদস্য নিহত হয়েছে। তিনি নিহতের সংখ্যা না জানালেও নিহতদের স্বজনরা জানান, ওই হামলায় প্রায় ২০ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে।
গত শনিবার আরাকান আর্মি তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, দলের যোদ্ধারা সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৫০ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এতে প্রায় ১২ সেনা নিহত হয়। তারা জব্দ করা সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের ছবিও আপলোড করে।
এদিকে বিবিসি বলছে, গত তিন মাস আগে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর এটাই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার অভিযোগ। লড়াইটি চলছে মূলত সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে। এই আরাকান যোদ্ধারা জাতিগতভাবে রাখাইন এবং প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এই সংঘাতে চলতি বছরের শুরুর দিক থেকে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে অভিযান চালায় তাতে বহু রোহিঙ্গা হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় এবং ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ বলছে, মিয়ানমারের বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়ন শুরু করেনি মিয়ানমার।