পদ্মা সেতুর মাওয়া অংশে সবচেয়ে জটিল ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারের পাইল বসানোর কাজ শেষ হচ্ছে আজ বুধবার। পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৩ ও ১৪ নম্বর পিয়ারের ওপর দশম স্প্যানও বসবে আজ। পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া এই স্প্যান বসানোর কাজকে সবচেয়ে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এই প্রকৌশলী।
প্রকৌশলী আবদুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্প্যান বসানোর কাজ জটিল কিছু নয়। অনেকে পরিষ্কার ধারণা না নিয়েই কথা বলছেন। এতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নতুন এ স্প্যান বসানোর জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। আবহাওয়া ভালো থাকলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই স্প্যান বসানো শেষ হবে ইনশাল্লাহ।’
পদ্মা নদীর তলদেশের নরম মাটির কারণে ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ার নির্মাণ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল উল্লেখ করে আবদুল কাদের বলেন, ‘আগামীকাল (আজ বুধবার) জটিল এ দুটি পিয়ারে পাইল বসানোর কাজ শেষ হবে। সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে নদীতে পড়েছে ২৬২টি। এরই মধ্যে ২৪৭টি পাইলের কাজ শেষ হয়েছে। ২৯৪টি পাইলে ৪২টি পিয়ার উঠবে। এর মধ্যে পিয়ার-৬ ও পিয়ার-৭ এর কাজ সবচেয়ে কষ্টসাধ্য ছিল, যা আমরা সঠিকভাবে প্রায় সম্পন্ন করেছি।’
পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৫ সালে সেতুর কাজ শুরুর দিকে মাওয়া অংশের ৭ নম্বর পিলারে মাটির নরম অংশ চিহ্নিত হয়। পরে একে একে ১১টি পিলারে একই ধরনের বিপত্তি দেখা দেয়। মাওয়া অংশ থেকে কাজ সরিয়ে নেওয়া হয় জাজিরা প্রান্তে। পরে একটি ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ জটিলতা নিরসন করা হলে এসব পিয়ারের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তারা আরও জানান, নতুন স্প্যানটি পদ্মা সেতুর মাওয়া অংশে বসতে যাওয়া প্রথম স্প্যান। এটি বসানোর পর সেতুর ১৫০০ মিটার বা দেড় কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে। তবে স্প্যানগুলো তিনটি ভিন্ন স্থানে বসানোর কারণে আপাতত বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যাবে। আগামী ২০ এপ্রিল ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পিলারের মধ্যে ১১ নম্বর স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট স্প্যান বসানো হবে ৪১টি। চীন থেকে এরই মধ্যে ২১টি আনা হয়েছে। যার বেশিরভাগই মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। পিলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকি স্প্যানগুলোর অংশও চীন থেকে দেশে আনা হবে।