চট্টগ্রামে লোকমান হত্যার আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

নগরীর বাকলিয়া থানার খালপাড় এলাকায় ‘কিশোর প্রেমের বিরোধ মেটাতে গিয়ে’ যুবলীগ কর্মী লোকমান খুনের পর মামলার প্রধান আসামি মো. সাইফুল পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল যুবলীগ নেতা ও একটি কিশোর গ্রুপের ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সম্প্রতি কিশোরদের বিরোধ মেটাতে গিয়ে খুন হওয়া এইচ এম লোকমান হোসেন রনি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল। লোকমানের মা রোকেয়া বেগম বাকলিয়া থানায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী  দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাইফুল এবং লোকমান হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি জিয়াউদ্দিন বাবলুকে সোমবার ফটিকছড়ি জাফরনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সাইফুল ঘটনার দিন গুলি ছোড়া এবং তার গুলিতেই লোকমান নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে।’ তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে সাইফুল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র কোথায় আছে তা জানায়। তার স্বীকারোক্তি মতে অস্ত্র উদ্ধারে কল্পলোক আবাসিক এলাকার খালপাড় কবরস্থান এলাকায় গেলে কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। এ সময় ঘটনাস্থলে সাইফুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।’

ওসি জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি এবং দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। গোলাগুলিতে বাকলিয়া থানার এসআই কারিমুজ্জামান ও এএসআই আলমগীর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাইফুল নগরীর বাকলিয়া থানার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার রফিক আহাম্মদের ছেলে। তাদের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলায়। গ্রেপ্তার জিয়া বাকলিয়ার খালপাড় এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে নিহত লোকমান (৩৫) নগরীর গোলপাহাড়-সংলগ্ন বাদশা মিয়া রোডের পশুশালা এলাকায় থাকতেন। তিনি সেখানে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, বাকলিয়ার শাহানাজ ভিলা নামক ভবনের মালিক সাইফুল। ভবনটির দ্বিতীয় তলা থেকে সাইফুল লোকমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। ভবনটিতে বিভিন্ন সময় নানা অপরাধমূলক কর্মকা- ঘটত বলে দাবি এলাকাবাসীর।

গতকাল এলাকায় গিয়ে জানা যায়, সাইফুল এলাকাবাসীর কাছে ডাকাত সাইফুল বা গুলি সাইফুল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে জানান, ওই ভবনের আশপাশ ঘিরে প্রায় সময় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত। দুই দিন আগেও এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। এর আগে ফুলতলা এলাকার একটি অফিসে গিয়ে ২ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাইফুলের লোকজন জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।