নাসিরের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সুপার লিগে শেখ জামাল

দুর্দান্ত বোলিংয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সেঞ্চুরিতেও তাই আবাহনী লিমিটেড খুব বড় পুঁজি দাঁড় করাতে পারল না। বল হাতে আসল কাজটা করে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও ত্রাতা হয়ে এলেন নাসির হোসেন। তাতে শক্তিশালী আবাহনীকে হারিয়ে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে সুপার লিগ নিশ্চিত হলো শেখ জামালের।

বুধবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের একাদশ রাউন্ডে আবাহনীকে ৩ উইকেটে হারায় শেখ জামাল। সাভারের বিকেএসপিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২১১ রান করেছিল আবাহনী। জবাবে ৭ বল হাতে থাকতে জয় নিশ্চিত করে শেখ জামাল।

সমীকরণটা এক অর্থে সহজই ছিল শেখ জামালের জন্য। আবাহনীকে হারালেই সুপার সিক্স বা সুপার লিগ নিশ্চিত। কিন্তু হারলেই ঘটতে পারত বিপত্তি।

একাদশ ও শেষ রাউন্ডের খেলা মাঠে গড়ানোর আগে সুপার লিগে লড়াইয়ে ছিল তিন দল- শেখ জামাল, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। তিন দলেরই পয়েন্ট ছিল ১০ করে। মোহামেডান ও গাজী ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে মাঠে নামবে বৃহস্পতিবার।

তারা জিতলেও এখন যে কোনো এক দল সুযোগ পাবে সুপার লিগে। কেননা ১২ পয়েন্ট নিশ্চিত করা শেখ জামাল মুখোমুখি লড়াইয়ে মোহামেডান ও গাজী দুই দলকেই হারিয়েছে। তাই তাদের সুপার লিগ নিশ্চিত। এদিকে আগে থেকেই সুপার লিগ নিশ্চিত করেছিল লিজেন্সড অব রূপগঞ্জ, আবাহনী লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও প্রাইম দোলেশ্বর ক্রিকেট ক্লাব।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জহুরুল ইসলাম অমির (৯) উইকেট হারায় আবাহনী। তাকে বোল্ড করেন সালাউদ্দিন শাকিল। এরপরই বোলার নাসিরের ঝলক। ষষ্ঠ ওভারে একে একে ফিরিয়ে দিলেন জাহিদ জাভেদ (৩), সৌম্য সরকার (১) ও নাজমুল হোসেন শান্তকে (০)।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে জাভেদ ও সৌম্যকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও পারেননি নাসির। তবে এক বল বিরতিতে ফিরিয়েছেন শান্তকে।

এরপর মোসাদ্দেকের ব্যাটে সংগ্রাম শুরু আবাহনীর। শেষ পর্যন্ত দুই শ পেরোনো স্কোর গড়ে তারা। মোসাদ্দেক ১৩৯ বলে অপরাজিত ১০১ রান করেন ৬ চার ও ৩ ছক্কায়। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় শতক। এই সেঞ্চুরিতে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকার দাবি জোরালো হলো তার। এ ছাড়া ৩৩ রান এসেছে মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকে।

২১২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শেখ জামালের শুরুটাও হলো বাজে। ১২ রান যোগ করতেই নেই ২ উইকেট। তবে ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন ও অনুষ্টুপ মজুমদারে বিপদ কাটায় শেখ জামাল।

তবে একই ওভারে ইমতিয়াজ (৩০) ও নুরুল হাসান সোহানকে (০) হারিয়ে ফের চাপে পড়ে শেখ জামাল। এরপর নাসির হোসেন হাল ধরলেন। অনুষ্টুপ ৮২ বলে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন ৪ চারে। নাসির ৫৬ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করেন।

দলীয় ১৪১ রানে অনুষ্টুপ ও ১৪৮ রানে ফেরেন নাসির। এরপর শেখ জামালকে পথ দেখিয়েছেন তানবীর হায়দার। অপরাজিত ৩৮ রানে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এনামুল হক অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে।

আবাহনীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, সানজামুল ইসলাম ও সৌম্য সরকার। ম্যাচসেরা হয়েছেন নাসির হোসেন।