অভ্যাস থেকে দাঁতের ক্ষতি

নিজেদের অজান্তেই অনেক বদ-অভ্যাস থেকে আমাদের দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতির মাত্রা বোঝা যায় না বলে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাই না। যখন সমস্যা হয়ে যায়, তখন চিকিৎসা-ব্যবস্থাও হয়ে ওঠে জটিল, সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। মনগড়া পদ্ধতিতে দাঁত পরিষ্কার

কিছু অতিসচেতন বা সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষ দাঁত সাদা করতে কয়লা, ছাই, বাজারজাত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন। কিংবা তিন মিনিটের বেশি সময় ধরে ইচ্ছামতো দাঁত মাজে, শক্ত টুথব্রাশ ব্যবহার করে। এতে কোনো উপকার হয় না, উপরন্তু প্রতিরক্ষা আবরণ এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়। গবেষকরা স্পষ্ট করে বলছেন, সকালে নাশতার পর ও রাতে খাবার পর ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ও নরম টুথব্রাশ দিয়ে আলতো করে দুই মিনিটেই দাঁতের সব পৃষ্ঠ পরিষ্কার সম্ভব।

বরফ খাওয়া

ফাস্টফুডের এই যুগে অনেকেই গরম খাবারের মধ্যে বরফযুক্ত কোমলপানীয় পান করেন, বরফ চিবান। এতে দাঁতে ক্ষুদ্র ফাটলের সম্ভাবনা দেখা দেয়। প্রায় সব ধরনের কোমলপানীয় দাঁতের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

পেনসিল চিবানো

পরীক্ষা হলে বা লেখাপড়ার সময় অনেকে নিজের অজান্তে কলম বা পেনসিল কামড়ান। এতে দাঁতের আবরণ ক্ষয় হতে পারে।

নখ কাটা

রেগে গেলে বা দুশ্চিন্তায় কেউ কেউ অনিচ্ছাকৃত দাঁত দিয়ে নখ কাটেন, এতে দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন অভ্যাস চোয়ালের হাড়ের সন্ধিকেও ক্ষতি করতে পারে, এমনকি নিচের চোয়াল সামনে বড় করে দিতে পারে।

কোমল পানীয়র কর্ক খোলা

অতি সাহসী কিছু মানুষ দাঁত দিয়ে বাজারজাত কোমল পানীয়র কর্ক খোলেন, মেয়েরা সুতা কাটেন, চুলের ক্লিপ খোলেন। মনে রাখতে হবে, দাঁত শুধু গৃহীত খাদ্য চর্বনের জন্যই ব্যবহার করা উচিত। তা না হলে বদ-অভ্যাস থেকে দাঁতের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

আঙুল চোষা

কিছু বাচ্চা একটি সাময়িক সময়ের পরও আঙুল চোষে। এতে ওপরের দাঁতের হাড় সামনে এসে মুখের আকৃতি ও হাসি নষ্ট করে। মুখ শুষ্ক হয়ে দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে। এ অভ্যাস ত্যাগ করতে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

ধূমপান ও জর্দা

এ অভ্যাস ছাড়ার কোনো বিকল্প নেই। দাঁতের ওপরে কালো দাগ, মুখে দুর্গন্ধ, হাড়ক্ষয়, মাড়িতে বিভিন্ন রোগ, আলসার থেকে শুরু করে মারণব্যাধি ক্যানসারের উদাহরণ অগণিত। তামাক সেবনের কোনো উপকারিতা গবেষকরা খুঁজে পাননি, বরং বেরিয়ে এসেছে ভয়ংকর সব ক্ষতিকারক দিক।

ব্রুকসিজম

রেগে গেলে বা ঘুমের মধ্যে অনেকেই দাঁতে দাঁত ঘষেন। অপ্রতিরোধ্য এই অভ্যাসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তা না হলে দাঁতক্ষয়, চোয়ালের হাড়ক্ষয়সহ নানা জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

সর্বোপরি মিষ্টিজাতীয় খাদ্যের প্রতি আসক্তি কমাতে হবে। চিনির তৈরি খাবার দাঁতের জন্য বিপজ্জনক। চিনিকে অনেকেই যুক্তিসংগত কারণে সাদা বিষ বলে থাকেন। সচেতনতার মাধ্যমে আমরা নিজেদের সুস্থ রাখতে সচেষ্ট হই।