শত কোটি টাকা খরচ করেও চালু করা যাচ্ছে না চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স।সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ডে স্থাপিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় কেমিক্যাল উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক থাকার পরও ২০০২ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত উৎপাদনে পৌঁছাতে পারেনি এই প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যেই খরচ হয়ে গেছে শত কোটি টাকার বেশি। শ্রমিক নেতারা বলছেন, এজন্য দায়ী কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাব। অন্যদিকে কর্মকর্তারা দুষছেন ঠিকাদারি পাওয়া চীনা কোম্পানিকে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সালে ৯১ একর জমি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত দুটি কারখানা স্বাধীনতা পরবর্তী সময় একীভূত করে চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) নামে জাতীয়করণ করা হয়। এই কারখানায় উৎপাদিত হাইড্রোক্লোরিক এসিড, কস্টিক সোডা, তরল ক্লোরিনসহ প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল সরবরাহ হতো বিভিন্ন শিল্প কারখানায়। উৎপাদন আরও বাড়াতে ১৯৯৬ সালে ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানাটিকে বিএমআরই করা হয়। এরপর উৎপাদন আরও বেড়ে যায়। ৩৭ বছর চালু থাকা লাভজনক এ প্রতিষ্ঠান ২০০২ সালে বন্ধ করে দেওয়ার কারণ নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
পুনরায় চালুর উদ্দেশে ২০০৯ সালে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা কোম্পানি ‘ওয়াং এনিয়ং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র মাধ্যমে কারখানাটির সংস্কারকাজ শুরু করে সরকার। ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ কারখানাটি প্রস্তুত বললেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সরে যায় চীনা কোম্পানিটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিবিএ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সদিচ্ছার অভাবে কারখানাটির অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। বেসরকারি কেমিক্যাল উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর যোগসাজশে চট্টগ্রাম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স চালুর ব্যাপারে অনীহা কর্মকর্তাদের। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চীনা কোম্পানিকেও যথাযথ সহযোগিতা করা হয়নি, জানান তারা।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুদীপ মজুমদারের সঙ্গে গতকাল সোমবার এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি উপ-প্রধান প্রকৌশলী শ্যামল কুমার চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। শ্যামল কুমার চাকলাদারের কার্যালয়ে গিয়ে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করলেও তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। তথ্য পেতে হলে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।