ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া ও শফিউর রহমান ফারাবীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও ১৫ জনকে অব্যাহতি প্রদান করেন। পরোয়ানাভুক্ত দুজন হলেন চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত ১৫ আসামি হলেন সাদেক আলী ওরফে মিঠু, মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, আমিনুল মল্লিক, জাফরান হাসান, জুলহাস বিশ্বাস, আবদুর সবুর ওরফে রাজু সাদ, মাইনুল হাসান শামীম, মান্না ইয়াহিয়া ওরফে মান্নান রাহি, আবুল বাশার, মকুল রানা, সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তু। গত ১৩ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারীর আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৩৪ জনকে। চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেনÑ মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার), আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আকরাম হোসেন ওরফে আবির, মো. মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে হাদী, মো. আরাফাত রহমান ও শফিউর রহমান ফারাবী।
চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়, আসামি মোজাম্মেল হুসাইন, আকরাম হোসেন, হাসান ও আবু সিদ্দিক হত্যাকা-ের দুই মাস আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৯২/২ নম্বর বাসাটি ভাড়া নিয়ে অভিজিৎ রায়কে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণসহ হত্যাকা- বাস্তবায়ন করেন। আসামি মোজাম্মেল রেকি টিমের নেতৃত্ব প্রদান করাসহ অপারেশন শাখার মুকুল রানাকে অনুসরণসহ এ হত্যাকান্ডের সার্বিক সহযোগিতা এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে আসামি আবু বকর, আকরাম ও হাসান অভিজিৎ রায়কে হত্যার অভিপ্রায়ে অনুসরণ এবং রেকি করাসহ হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারী আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। আসামি আরাফাত রহমান, আলী ওরফে খলিল, অনিক ও অন্তুদের দায়িত্ব ছিল টার্গেট ব্যক্তিকে হত্যা করা। আর অভিজিৎকে তারা চারজনই চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কোপায়। অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তিনিও আহত হন। অপারেশন শাখার চার আসামি যাতে হত্যাকা- সংঘটিত করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে তার জন্য তাদের চারপাশে আসামি চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া, সেলিম, মুকুল রানা, মোজাম্মেল, আবু সিদ্দিক, আকরাম কর্ডন করে রাখেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিজিৎ রায়কে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের বাবা শিক্ষাবিদ অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। অভিজিৎ হত্যাকান্ডের প্রায় দুই মাস পর আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস) এ হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে বলে খবর দেয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করে, এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা নেই।