প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে আজ সকালে ঢাকা আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিং। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়েই মূলত সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে। সেখানে নৌ কার্গো চলাচল, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাত বিষয়ক, অভ্যন্তরীণ নৌপথসহ বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি। এদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন লোতে শেরিং। এ ছাড়া বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় হবে তার।
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ সকালে লোতে শেরিং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে চ্যানেল আই আয়োজিত সুরের ধারার আয়োজনও উপভোগ করবেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি আড্ডায় মিলিত হবেন শিক্ষার্থী জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে। ২০০৩ সালে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার ১৫ বছর পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশি অ্যালামনাই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বলেছেন, তার এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। বাংলাদেশ শুধু ভুটানের চিকিৎসকই তৈরি করছে না, সেখানের নেতাও তৈরি করছে। এ জন্য বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। দেশটি বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিতে আগ্রহী। তা ছাড়া শিক্ষা খাতে বিশেষ করে মেডিকেল কলেজে আরও শিক্ষার্থী পাঠাতে চায়। জলবায়ু এবং বাংলাদেশ-ভুটানের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে এসে বিদেশি কোটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ২৮তম ব্যাচে ভর্তি হন এবং ১৯৯৯ সালে এমবিবিএস পাস করে ঢাকায় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এফসিপিএস কোর্স সমাপ্ত করেন। ২০১৩ সালে তিনি সিভিল সার্ভিস থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভুটানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা নির্বাচনে তার রাজনৈতিক দল ডিএনটি জয়লাভ করে।