পল্লী বিদ্যুতের কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় দুই দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে অর্থ আদায় ও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া পেট্রল পাম্প নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার একটি টিম ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে অভিযান চালায়। দৌলতপুরে এক দালালকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় করায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়। একই অপরাধে আরেক দালালকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুদক ফরিদপুরের জেলা কার্যালয় মধুখালী উপজেলা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পায়। দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালরা পালিয়ে যায়। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে অভিযানে দেখা যায়, গ্রাহক ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে জড়িত। একটি সেচ প্রকল্পের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ দেওযার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানকারী দল এ বিষয়ে অনুসন্ধানের পর সুপারিশ করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবে।
দুদক ময়মনসিংহ কার্যালয় নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে অভিযান চালিয়ে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ঘুষের অভিযোগ যাচাই করে। তাকে তিন বছর ধরে পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা অজুহাতে ঘুরাচ্ছেন। বিষয়টি ওই অঞ্চলের জিএমকে জানালে তিনি জানান, ওয়্যারিং রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে এলটি প্রকল্পের আওতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগকারীকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।
এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানে হয়রানির অভিযোগে অভিযান চালায় দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-২ অভিযানে নেমে দেখে, সেবাপ্রত্যাশীরা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তার কাছে যেতে পারেন না, তার আগেই কিছু কর্মচারী অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্সের ব্যবস্থা করে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স বাবদ ৫০০ থেকে এক হাজার ঘুষ লাগে। লাইসেন্স শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা বজলুর রশিদ ও লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তা আবদুর রশিদের অনিয়মের বিষয়ে দুদক টিম সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে অবহিত করেন। এ সময় মেয়র ওই দুই কর্মকর্তাকে সতর্ক করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
একই টিম পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই একটি পেট্রল পাম্প নির্মাণের অভিযোগ খতিয়ে দেখে। গাজীপুর চৌরাস্তায় এসএস পেট্রল পাম্পটি অধিদপ্তর একাধিকবার আপত্তি প্রদান সত্ত্বেও নির্মিত হচ্ছিল। দুদক টিম এ সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে।
এছাড়া গাইবান্ধা সরকারি কলেজে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে এমন অভিযোগ দুদকের গোচরে এলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কলেজে অভিযান চালান। এ সময় হল থেকে ১২১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।