কাঠের হাতি-ঘোড়া তৈরিতে ব্যস্ত সোনারগাঁয়ের কারুশিল্পীরা

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী কাঠের চিত্রিত হাতি-ঘোড়ার কারুশিল্পীরা। এখন চলছে হাতি-ঘোড়ায় রং লাগানোর কাজ।

এ কাজে হাত লাগিয়েছেন পরিবারের পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি নারীরাও।

দীর্ঘদিন ধরে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত উপজেলার পৌর এলাকার ভট্টপুর গ্রামের বীরেন্দ্রচন্দ্র সূত্রধর ও জিয়ানগর গ্রামের আশুতোষ চন্দ্র সূত্রধরের পরিবার।

বৈশাখী মেলায় এসব চিত্রিত হাতি, ঘোড়া ও পুতুলের চাহিদা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে বলে রাতদিন কাজ করে বিক্রির উপযোগী করে তুলছেন তাদের কারুপণ্য।

তারা এসব কারুপণ্য খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকারিও বিক্রি করে থাকেন। পয়লা বৈশাখের বিভিন্ন মেলায় এ পণ্যের কিছুটা চাহিদা রয়েছে বলে জানান এ শিল্পের কারুশিল্পীরা। তবে বছরের অন্যান্য সময় তেমন একটা চাহিদা থাকে না।

এসব হাতি, ঘোড়া ও পুতুল আকার ভেদে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়।

জিয়ানগর গ্রামের কারুশিল্পী আশুতোষ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “আমরা বংশগতভাবেই এসব হাতি-ঘোড়া তৈরির কাজে জড়িত। বর্তমানে প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি খেলনা বাজার দখল করে ফেলেছে। তাই আমাদের তৈরি এসব হাতি-ঘোড়া তেমন একটা চলে না। তবে বৈশাখে এসবের চাহিদা কিছুটা বেশি থাকে বলে এ সময়টায় আমরা কাজে ব্যস্ত থাকি।

ভট্টপুর গ্রামের কারুশিল্পী বীরেন্দ্রচন্দ্র সূত্রধর বলেন, “আমাদের পরিবারের সবাই এ কাজে যুক্ত। বর্তমানে কাঠের দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে আমাদের কারুপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও আমরা বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছি। এক সময় পয়লা বৈশাখে এসব হাতি-ঘোড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন অনেক কমে গেছে।

সোনারগাঁ সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি বাবুল মোশাররফ বলেন, “কাঠের চিত্রিত হাতি ঘোড়া ও পুতুল আমাদের ঐতিহ্য বহন করে। এক সময় গ্রামীণ মেলায় এসব পণ্য অহরহ পাওয়া যেত কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা হারিয়ে যাচ্ছে। সোনারগাঁয়ের দুয়েকটি পরিবার এখনো এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এটা আমাদের জন্য গৌরবের। এ শিল্প বিলুপ্ত হওয়ার আগেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।"