পহেলা বৈশাখের উৎসবে যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা প্রতিহত করতে রাজধানীর শাহবাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। এদিকে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বর্ষবরণ উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। রাজধানীতে মূলত রমনার বটমূল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) কেন্দ্রিক বড় আকারে বৈশাখী মেলা উদযাপিত হয়। মেলার পাশাপাশি এবার টিএসসিতে আয়োজন করা হবে কনসার্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কনসার্টে দেশের খ্যাতনামা ব্যান্ড ও শিল্পীর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বসা মেলায় ছোট ছোট স্টলে গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরচেনা রূপ ফুটিয়ে তোলা হবে।
ডাকসুর এজিএস ও শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন সাদ্দাম বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ সুষ্ঠুভাবে উদযাপন করতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জনস্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা, কনসার্টসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও উপভোগ্য করতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা নেবে। তারা কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেবে, যেন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’
এদিকে ২০১৫ সালে পহেলা বৈশাখের উৎসবের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে টিএসসি এলাকায় একদল যুবক নারীদের যৌননিপীড়ন করে। সেদিন ওই যুবকদের ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন বাম সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ থেকে আট লাঞ্ছনাকারী শনাক্ত হলেও সাতজনের নাম-পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। তারা এ পর্যন্ত কামাল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনিও বর্তমানে জামিনে আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, ‘বর্ষবরণে যৌননিপীড়নের ঘটনার চার বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে বিচার প্রত্যাশা করেছিলাম তা পাইনি। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাঙালির প্রাণের উৎসবে নিরাপত্তার নামে বিকেল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিত্যাগের বিধিনিষেধ জারি করেছে। আমরা এ বিধিনিষেধ প্রত্যাখ্যান করছি এবং উৎসবে যাতে নিপীড়নের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য ছাত্র ইউনিয়নের শতাধিক কর্মী সতর্ক অবস্থান নেবে।’