রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) একই সময়ে বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। পর্ষদ প্রধান ও নির্বাহী প্রধান একই সময়ে বিদেশে থাকলে ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে বিঘ্ন ঘটছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ বিভিন্ন সময়ে একই সঙ্গে বিদেশ সফরে যান এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বর্ণিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও তা মন্ত্রণালয়কে যথাসময়ে অবহিত করা হয় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জিওর (সরকারি আদেশ) কপিও প্রেরণ করা হয় না।’
একই সময়ে এমডি-চেয়ারম্যানকে বিদেশ যেতে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করে পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান ও এমডি দুজন একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থান করলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কর্মকা-সহ জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেসব কর্মসূচিতে চেয়ারম্যান কিংবা এমডির অংশগ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা উপযুক্ত পর্যায়ের অধীনস্থ কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন।
জারি করা পরিপত্রটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডির কাছে পাঠানো হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঋণ খেলাপিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এজন্য ব্যাংকের এমডি- চেয়ারম্যানদের ডাকলে তাদের পাওয়া যায় না। এ কারণেই পরিপত্র জারি করা হয়েছে।