দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা খুন

বগুড়ায় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুল আলম শাহীন (৫২) দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। এদিকে শাহীন খুনের প্রতিবাদে পাঁচদিনের কর্মসুচি দিয়েছে বগুড়া জেলা বিএনপি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ১১টার দিকে অ্যাড. শাহীন শহরের উপশহর বাজার এলাকায় দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় ৮/৯ জন সংঘবদ্ধভাবে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ও দু’পায়ে উপর্যুপরিভাবে ছুরিকাঘাত এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।

বগুড়ার ছিলিমপুর ফাঁড়ির এসআই আব্দুল আজিজ মণ্ডল জানান, প্রথমে আহত অবস্থায় অ্যাড. শাহীনকে স্থানীয় স্বদেশ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে তার ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। বিকেলে প্রথম দফা জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এবং পরে তার বাড়ি শহরের ধরমপুর এলাকায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় শাহীনকে।

এদিকে বিএনপি নেতা অ্যাড. মাহবুব আলম শাহীন খুনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক টিম। পরিবহন মালিকদের সংগঠন মোটর মালিক গ্রুপ নিয়ে চলমান বিরোধ নিয়ে শাহীনকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নিহতের স্বজনরা। এছাড়াও উপশহর স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী জানান, মোটর মালিক গ্রুপের চলমান বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তার স্বামীকে কয়েক দিন ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।

নিহতের ভাতিজা শাহরিয়ার জানান, তার চাচার একটি বাস রোববার সন্ধ্যার পরে বগুড়া থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বগুড়ার শেরপুরে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বাসটি আটক করা হয়। বাস আটকের খবর পেয়েই সে রাত ৯ টার দিকে বাসা থেকে বের হন। এরপর উপশহর বাজার এলাকায় জিম শেষে চাল কেনেন। এর কিছুক্ষণ পর সদরের নুনগোলা ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুদ্দিনের সঙ্গে গল্প করার সময় দুর্বৃত্তরা হামলা করে। পরে দুজন পথচারী রক্তাক্ত অবস্থায় শাহীনকে উদ্ধার করে প্রথমে নামাজগড় এলাকায় স্বদেশ ক্লিনিকে নেন। সেখান থেকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শাহীনের আরেক ভাতিজা মেজবাহ জানান, মোটর মালিক গ্রুপ নিয়ে দ্বন্দ্ব ছাড়াও উপশহর স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল শাহীনের। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউদ জামান জানান, খুনের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের কয়েকটি টিম ছাড়াও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যরা ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খুনের ঘটনার সঙ্গে ৭-৮ জন জড়িত ছিল বলে পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সব বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে অনুসন্ধান করে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ করে যাচ্ছে একাধিক টিম।

এদিকে, অ্যাডভোকেট শাহীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া আইনজীবী বার সমিতির পক্ষ থেকে ফুল কোর্ট রেফারেন্স এবং আদালত এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। মিছিল থেকে অবিলম্বে শাহীন হত্যায় যুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। দুপুর আড়াইটায় আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, একাধিক বিষয় সামনে রেখে পুলিশ অনুসন্ধান করছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।