যুদ্ধাপরাধী মামলার ফাঁসির পলাতক আসামির মৃত্যু

সোমবার দুপুর গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত নূর উদ্দিন (৭০) নামের পলাতক আসামির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মৌদাম গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় নূর উদ্দিন পলাতক থাকা অবস্থায় প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

উল্লেখ্য চলতি বছরের ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার পলাতক পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-পূর্বধলা উপজেলার খারছাইল গ্রামের আবদুল খালেক তালুকদার (৬৭), উপজেলা সদরের  মো. কবির খান (৭০), পূর্বমৌদাম গ্রামের শেখ আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা (৬৬), একই গ্রামের আবদুস সালাম বেগ (৬৮) ও  মো. নূর উদ্দিন (৭০)।

এই মামলায় প্রথমে সাতজন আসামি ছিল। সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওইদিনই এক আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ট্রাইব্যুনালে এই মামলার যুক্তিতর্কের সময় গ্রেপ্তারকৃত আবদুর রহমান (৭০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে এক আসামি আহমদ আলী (৭৮) অভিযোগ গঠনের আগেই ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর মারা যান।

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাড়হা গ্রামের আবদুল খালেককে হত্যার ঘটনায় খালেকের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির ২০১৩ সালে এ মামলাটি করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ২১ আগস্ট আবদুল খালেককে গুলি করে হত্যার পর কংস নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয় ওই মামলায়। পরে মামলাটি ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরের বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। এরপর তিনি ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রসিকিউশন বিভাগ ২০১৬ সালের ২২ মে আসামিদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং একই বছর ১২ জুন অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতা বিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাাল। এই রাজাকারদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ডা. হেম সুন্দর বাগচী হত্যা, নির্যাতন, লুন্ঠণসহ একাধিক মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের বাড়িতে নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুঠপাট চালায় বলে প্রসিকিউশনে অভিযোগ রয়েছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাওহীদুর রহমান জানান, মরদেহ আনার জন্যে তার স্বজনরা গাজীপুরের জয়দেবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। মরদেহটি এলাকায় আসলে পুলিশ প্রশাসন সরেজমিনে দেখে তার মৃত্যুর বিষয়টি আদালতকে অবহিত করবেন বলে জানান।