যত্রতত্র মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না

দেশে যত্রযত্র মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আমরাই প্রথম দেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছি। এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব বিভাগীয় শহরে এ বিশ্ববিদ্যালয় হবে। ফলে যেনতেন উপায়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ-২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করতে অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ বিতরণ করেন।

আগে নার্সিংয়ে আসতে চাইলে তাকে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হতে হতো। এরই মধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত নয়; বরং নার্সিং পড়ার সময় বিজ্ঞানের যে বিষয়টি যতটুকু প্রয়োজন, সেটা নার্সিং শিক্ষার কারিকুলামে সংযুক্ত করে দিতে হবে। যেকোনো

 বিষয়ে পড়ে নার্সিংয়ে আসা যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ভেষজ, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা উপেক্ষা করতে পারি না। মানুষের সুচিকিৎসায় এগুলোর উন্নয়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বব্যাপী ভেষজ চিকিৎসার উন্নয়ন ঘটছে। ফলে এ পদ্ধতির উন্নয়নে বাংলাদেশেরও নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার ক্লিনিক মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে এবং এখান থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘১৯৯৬-০১ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্লিনিকগুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এই বনিয়াদি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রসবকালীন সময়ের জন্য দক্ষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকার আইসিটি ব্যবহার করে ‘স্বাস্থ্য বার্তা’ নামে কল সেন্টারের মাধ্যমে টেলি মেডিসিন সেবা চালু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের কারণে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৬৬ দশমিক ৮ বছর থেকে বেড়ে ৭২ বছর ছাড়িয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৪৮ থেকে কমে ১ দশমিক ৭২ (প্রতি হাজারে) এবং শিশু মৃত্যুর হার প্রতি ১০০০ এ ৪১ থেকে কমে ২৪-এ দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তৃতা করেন।