মেসি দ্যুতিতে ম্যানইউকে উড়িয়ে সেমিতে বার্সা

চলতি মৌসুমে আরও একটি যাদুকরী পারফরম্যান্স দেখালেন লিওনেল মেসি। করলেন জোড়া গোল। তার দ্যুতিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে উড়িয়ে তিন মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠল বার্সেলোনা।

কাম্প নউয়ে মঙ্গলবার রাতে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি পর্বে ইউনাইটেডকে ৩-০ গোলে হারায় লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করেন মেসি; বিরতির পর অতিথিদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো।

দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করল এরনেস্তো ভালভেরদের দল। এর আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির মাঠে ১-০ গোলের জয় পেয়েছিল তারা।

নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। গোল পেতেও খুব দেরি হয়নি তাদের। চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন মেসি।

অ্যাশলে ইয়ংয়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে এক জনকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কোণাকুণি শটে জাল খুঁজে নেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। মেসির নৈপুণ্যেই চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা।

ইউনাইটেডের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ফ্রেদ বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে পেয়ে যান মেসি। খানিকটা এগিয়ে গিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের হাত ও পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়ায় বল।

৪০তম মিনিটে আরও একটি গোল পেতে পারত বার্সেলোনা। মেসির নেওয়া বাঁকানো ফ্রি-কিকে হেড করেছিলেন ইভান রাকিতিচ। অল্পের জন্য ঠেকিয়ে দেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক দেভিদ দে হেয়া। বিরতিরে যাওয়ার ঠিক আগে লুইস সুয়ারেসের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের মাত্রা ধরে রাখে বার্সেলোনা। ৬১তম মিনিটে দলকে তৃতীয় গোলটি এনে দেন কৌতিনিয়ো। জর্দি আলবার সেট পিস থেকে কোনাকুনি শটে জালে বল পাঠান ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার।

তিন গোল খেয়ে রক্ষণভাগ আরও জোরালো করে ম্যানইউ। এই সময়ে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা। টানা তিন মৌসুম পর প্রতিযোগিতাটির শেষ চারে উঠল দলটি। সবশেষ ২০১৪-১৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনাল খেলেছিল বার্সেলোনা। ওই মৌসুমে পঞ্চমবারের মতো শিরোপাও ঘরে তুলেছিল তারা।

একই দিন কোয়ার্টার-ফাইনালের অপর লড়াইয়ে আয়াক্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গেছে ইউভেন্তুস। দুই লেগ মিলিয়ে তাদের হার ৩-২ গোলে।