কুষ্টিয়া মডেল থানার একটি হত্যাকাণ্ড মামলায় এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড এবং শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অপরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। অন্যদিকে সাড়ে ১১টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- মাদারীপুর রাজৈর উপজেলার শংকরদি গ্রামের মৃত আবুল হাছেনের ছেলে নুর আলম (৩৫) এবং শিশু ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- মাগুরা জেলার পারনান্দুমালী গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে জালাম ওরফে জামাল উদ্দিন (৪২)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২০ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড়ের ফল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের প্লাস্টিক ড্রামবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বর্ণা আক্তার বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় নুর আলমকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর নুল আলম এবং টিপু মন্ডল নামে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মডেল থানা পুলিশ।
অপরদিকে ২০১০ সালের ৯ অক্টোবর বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকার ভারাটিয়া জালাম ওরফে জামাল উদ্দিন হোটেল শ্রমিক মা-বাবার অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে চকলেট দেওয়ার নাম করে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানয় শিশু ধর্ষণ মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১ ডিসেম্বর আসামি জালাম ওরফে জামালের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
কুষ্টিয়া জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়েরকৃত চাঞ্চল্যকর ফল ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় আসামি বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পূর্বক দীর্ঘ সাক্ষ্য শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমাণ হওয়ায় আসামি নুর আলমকে মৃত্যুদণ্ড এবং আসামি টিপু মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
এ সময় আদালতে উপস্থিত নিহত রবিউলের স্ত্রী ও মামলার বাদি বর্ণা আক্তার মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের কৌঁসুলি আকরাম হোসেন দুলাল জানান, আসামি জালাম ওরফে জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে দীর্ঘ সাক্ষ্য শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জামিনে থেকে পলাতক আসামি জামাল উদ্দিনের অনুপস্থিতিতেই আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।