সরকারের ল্যাপটপ, প্রজেক্টর টাকা দিলেন শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ বিনামূল্যের ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিতরণের সময় শিক্ষকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের বিআরডিবি হলরুমে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর বিতরণের সময় উপজেলার ১৪৮ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে বিদ্যালয়প্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। আর এ কাজে সহযোগিতা করেন পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) আল সিরাজ ও ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) ফণিভূষণ রায়। এ ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে। ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর নিতে আসা ১০-১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, ‘ল্যাপটপ গ্রহণের বিনিময়ে যত টাকাই আদায় করা হোক না কেন তা অনৈতিক ও ঘুষের শামিল। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ হওয়ায় আমরা বিনা প্রতিবাদে নির্ধারিত টাকা দিয়ে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এ টু আই) প্রোগ্রাম ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (পিইডিপি-৪) আওতায় পার্বতীপুর উপজেলার ১৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিতরণের জন্য ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বরাদ্দ আসে।

স্কুলপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে, পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আল সিরাজ বলেন, ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) স্যারের নির্দেশে শিক্ষকদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে পারব না।’  পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) মোস্তাফিজুর রহমান অর্থ আদায়ের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘পরিবহন খরচ বাবদ শিক্ষকদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করা হয়েছে।’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর বিতরণের জন্য পরিবহন খরচ বাবদ শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানুল হক বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ঠিক হয়নি। আদায়কৃত অর্থ শিক্ষকদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। টাকা আদায়কারী ওই দুই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে উপজেলা প্রশাসন।