রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল পানের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (৩ জুন) নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলা মিয়া (৪৫) নামের আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুলা মিয়া উপজেলার বালারহাট কুমোরপুর কন্তিবাড়ি গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। স্থানীয় বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মাহিদুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে উপজেলার বালারহাট বাজারে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। এরপর তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার রাতেই কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের ছাত্তার মিয়া (৬০) নিজ বাড়িতে মারা যান। পরবর্তীকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে বাকি চারজনের মৃত্যু হয়।
মৃতদের মধ্যে সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বুজরুক ঝালাই গ্রামের হুজুর আলী (৪৫) ও সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার সাজু মিয়া (৫৫)। এরপর মঙ্গলবার সকালে বুজরুক ঝালাই গ্রামের পাকারমাথা এলাকার এরশাদ আলী (৪০) প্রাণ হারান। সর্বশেষ বুধবার দুলা মিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ শিকদার জানান, বিষাক্ত অ্যালকোহল পানের এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। আসল কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে ইতোমধ্যে এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, বিষাক্ত ও অবৈধ অ্যালকোহল পানে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার জন্য দায়ী অবৈধ মাদক বিক্রেতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
