পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বামীকে মারধরের পর বেঁধে রেখে একদল লোক তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৫ এপ্রিল রাতে উপজেলার মহিপুর থানার ধুলাশর ইউনিয়নের নতুনপাড়ার এ ঘটনায় গতকাল বুধবার পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিতাই চন্দ্র রায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এজাহার নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আদালতের কাছে অভিযোগে বাদী স্বামী ছিদ্দিক হাওলাদার জানান, ১৫ এপ্রিল রাতে তিনি তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খালা আলম, মনির হাওলাদারের ছেলে শাহিন, রবিউল, আল-আমিন, আবদুর রশিদ ও শাকিলসহ ১০-১২ জন জোর করে ঘরে ঢুকে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। ছিদ্দিকের বৃদ্ধ মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাধা দিতে গেলে ধর্ষক দলটি তাদেরও মারধর করে।
ছিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সেখান থেকে দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রীকে আল আমিনের মাছের ঘেরে নিয়ে আবার ধর্ষণ করে। পরে ধুলাশর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল আকনের বাড়িতে তাকে ফেলে ধর্ষকরা চলে যায়। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ বিষয়টি তাকে ফোনে জানালে তিনি তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর পটুয়াখালীতে পাঠানো হয়।
পটুয়াখালী হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ধর্ষিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড বসিয়েছে জানিয়ে পটুয়াখালী ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সার্ভিসের প্রোগ্রাম অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্বামী ও স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মামলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছি। বাকি সহযোগিতাও করা হবে।’
আদালতের আদেশের কথা জানতে চাইলে মহিপুর থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম একটি ঘটনা শুনেছি। কিন্তু কোনো ব্যক্তি মামলা করতে আসেনি। ভিকটিমের স্বামী বিগত দিনে মনসুর নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছিল। তার কারণে এটা হতে পারে বলে ধারণা করছি।’