সাভারে একটি মৃতদেহের পাশে পড়ে থাকা এক জোড়া জুতাকে আলামত হিসেবে নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জুতার মাপ ও রং বিবেচনা করে প্রথমে একটি হত্যায় জড়িত একজনকে আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৫ দিনে বিভিন্ন হত্যা মামলার ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৮ এপ্রিল সাভার হেমায়েতপুর পদ্মার মোড় এলাকায় প্লাস্টিক কারখানার শ্রমিক আবুল কাশেমকে (২১) হত্যার ঘটনায় মো. শাকিল আহম্মেদ ওরফে আল-আমিন (১৭) ও তপু চন্দ্র দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২ এপ্রিল সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় মতিউর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ ওরফে তুষার (১৮) ও বুকুল ওরফে ভুলু (১৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারের পাশাপাশি রাসেল বাবু নামে আরও একজনের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
একই ব্যক্তিরা ১১ এপ্রিল ঝাউচর এলাকায় মাইনুলকে (২৬) কুপিয়ে হত্যা এবং তার অটোরিকশা ছিনতাই করে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অটোরিকশা উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িত অভিযোগে রংপুর জেলার গঙ্গাচড় থানার বড়মধর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মিলনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরাই গত ২৭ মার্চ কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে অটোরিকশাচালক জাকিরকে কুপিয়ে হত্যা এবং তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
গত ১৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভারে চৌরাঙ্গী সুপার মার্কেটের সামনে সবজি ব্যবসায়ী মহসীন খানকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলোÑ সাভার পৌর এলাকার জামসিং জয়পাড়া মহল্লার আবদুল করিমের ছেলে শাওন হোসেন (২৭), সিরাজগঞ্জ জেলার কামারুখন্দ থানার জামতলা শেখপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে মো. শান্ত (৩৫), ঢাকার ধামরাই উপজেলার সেনাইল গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে হারুন অর রশিদ (৪০) এবং মানিকগঞ্জ জেলার সিংরাইল থানার কানারচর গ্রামের মৃত ইউসুফ মিয়ার ছেলে রতন (৩৫)।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃতদেহের পাশ থেকে এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। পরে সেই জুতার মাপ এবং রং দেখে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন প্রকৃত আসামিকে গ্রেপ্তার করি। তাকে জিজ্ঞাসাদে জানা যায় উত্তরাঞ্চলে তাদের গ্রুপের আরও কয়েক সঙ্গী রয়েছে, যারা বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবেশে অটোরিকশা ভাড়া করে ছিনতাই এবং হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করি। পরবর্তী সময়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও দুটি লাশ ফেলে রাখার কথা জানায়। এ ঘটনায় আমরা পাঁচটি মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের বিভিন্ন মামলায় রিমান্ড চেয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটানো অপরাধের তথ্য উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’