কাজে অনীহা আসে নানা কারণে। এ কারণের শেষ নেই। সেই এক কাজ, এক চেয়ার, এক টেবিল, সুতরাং অনীহা আসতেই পারে। তবে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কাজ, পরিবেশ, পরিস্থিতি ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে এই কারণ আবার ক্ষণে ক্ষণে তার চেহারা পাল্টায়। বিস্তারিত লিখেছেন সৈয়দ আখতারুজ্জামান
চাকরি জীবনের নানা সময়ে ক্লান্তি এসে ভর করে। একই ধরনের পরিবেশে একই কাজ বারবার করার ফলে ব্যক্তিজীবনে তো বটেই সামাজিক জীবনেও প্রভাব পরে। একধরনের মানসিক চাপ কাজ করে। কাজে চলে আসে অনীহা। এই অনীহা দূর করার জন্য রইল দশ পরামর্শ।
একই কাজ কিন্তু করার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে
একই কাজ যে একই ভাবে করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা হয়তো সব সময় থাকে না। আপনি চেষ্টা করলে হয়তো একই কাজ সম্পন্ন করার একটা নতুন পদ্ধতি বের করে নিতে পারেন। নিজেকে এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেওয়ার আপনার ভেতর চাই সৃষ্টিশীলতা। নতুন নতুনভাবে একই কাজ করার নানা চমকপ্রদ পদ্ধতি। একবার চেষ্টা করেই দেখুন না।
কাজের সঙ্গে আনন্দ যোগ করুন
জীবনে বিনোদন আনার চেষ্টা করুন। মন খারাপ করে, মুখ বুজে, চুপচাপ কাজ করে আসলে আপনি নিজেকেই চারপাশের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছেন। দেখুন চারপাশের হাসিখুশি মুখগুলো। সহকর্মীদের সঙ্গে মাঝে মাঝে গল্প করুন। জীবনের আনন্দ-বেদনার গল্পগুলো মাঝে মাঝে শেয়ার করুন। দেখবেন হালকা লাগছে।
ছুটির দিনে ছুটি উপভোগ করুন
অনেক সময় দেখা যায় ছুটির দিনে আরও বেশি কাজ করতে হয়। বিশ্রাম তো দূরের কথা! ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুবান্ধবসহ বেড়াতে যান। যেখানে যেতে মন চায় ভালো লাগে। দেখবেন নতুন পরিবেশে নিজের ভেতরে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। সবকিছুই তখন আর একঘেয়ে লাগবে না।
বন্ধুর সঙ্গে শেয়ার করুন, মন হালকা করুন
সহকর্মী বা বন্ধুদের সঙ্গে নিজের সমস্যা
নিয়ে আলোচনা করুন। পরামর্শ নিন। দেখবেন সহকর্মীরাও আপনাকে নতুন
নতুন আইডিয়া দিয়ে সাহায্য করছেন।
নিজের কাজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারছেন নতুনত্ব।
বসের সঙ্গে বা অভিজ্ঞ শুভাকাক্সক্ষীর সঙ্গে আলাপ করুন
অনেক সময় চাইলেও পদ্ধতি ভেঙে নতুন কোনো আইডিয়া বাস্তবায়ন করা যায় না। সেক্ষেত্রে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।
বোঝানোর চেষ্টা করুন যে এতে আপনার দক্ষতা তো বাড়ছেই না কাজেরও ক্ষতি হচ্ছে।
নতুন কাজে নতুন উদ্যম
পদোন্নতির জন্য পরিকল্পনা করুন। উদ্যমী হয়ে নিয়মিত কাজের পাশাপাশি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করুন। এতে পুরনো কাজের পাশাপাশি নতুন একটা কাজ পেলে একঘেয়েমি তো দূর হবেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পর্ষদও দেখতে পাবে আপনার কাজের আগ্রহ আছে। ফলে আরও ভালো কোনো দায়িত্ব দিয়ে আপনার পদোন্নতি হয়ে যাওয়া কোনো অবাক ঘটনা নয়।
পারিবারিক জীবন থাকুন আনন্দময়
অফিসের একঘেয়ে কাজের পাশাপাশি আপনার পারিবারিক জীবন যেন একঘেয়ে না হয়ে ওঠে সেদিকে খেয়াল দেওয়া জরুরি। অফিসের আট থেকে নয় ঘণ্টা সময় ছাড়াও আপনার জীবনের একটা বড় অংশ পড়ে রয়েছে। যেখানে আপনি একজন পরিবারের সদস্য বা কারও ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা কোনো সংগঠনের সদস্য। এখানে আপনার জীবনে আরও সাজানোর নানা উপাদান ছড়িয়ে রয়েছে।
কাজের বাইরেও অনেক কাজ
বাসায় নানা কর্মকান্ডে নিজেকে বৈচিত্র্যময় করে তুলুন। গাছের পরিচর্যা করা, অন্দর মহলের সৌন্দর্যচর্চা, শরীরচর্চা, বই পড়া, সিনেমা দেখা কিংবা কারও বাসায় বেড়াতে যাওয়া। নতুন নতুন কাজের কি শেষ আছে? অফিসের একঘেয়ে কাজের যন্ত্রণা ভুলতে আনন্দময় কাজে ভরিয়ে তুলুন আপনার বাকিটা সময়। ঢাকা পড়ে যাবে সাময়িক দুঃসময়।
কাজে দক্ষতা চাই
কাজে অনীহার আরেকটি বড় কারণ কাজে দক্ষতা না থাকা। যে কাজ করতে ভয় হয়, অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়, সে কাজে অনীহা আসা স্বাভাবিক। তাই কাজে অনীহা দূর করতে কাজে দক্ষ হোন।
দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান
কথাটা আসলেই সত্যি, দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান জীবন পাল্টে যাবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিজেকে চাঙ্গা রাখা সম্পূর্ণ আপনার মানসিক ব্যাপার। অনেকেই আছেন যারা বৈচিত্র্যময় কাজ করেও অনীহায় ভুগছেন আবার কেউ কেউ এক ধরনের কাজ সারা জীবন করেও আনন্দে ভরপুর জীবন যাপন করছেন। আপনি কোন পথ বেছে নেবেন সে সিদ্ধান্ত আপনার।