১৪ মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার প্যারোলে মুক্তির গুঞ্জন উঠলেও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় কবে নাগাদ তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন সে প্রশ্নই এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। শুধু তাই নয়, তাদের নেত্রীর জন্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা কী করছেন সে বিষয়েও জানতে চাইছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া কবে নাগাদ সব মামলায় জামিন নিয়ে মুক্তি পেতে পারেনÑ সে বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কথা হয় তার একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়া বাকি ৩৫ মামলার সবকটিতেই বর্তমানে জামিনে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ দুই মামলায় জামিন পেলে চলতি মাসেই কারামুক্ত হতে পারেন খালেদা জিয়া।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-িত হওয়ার পর সেদিনই খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে। অসুস্থতার জন্য কয়েক মাস পর তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রায় এক মাস পর তাকে আবারও নেওয়া হয় পুরান ঢাকার কারাগারে। এরপর
চলতি মাসের ১ তারিখ তাকে আবারও বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার জামিন শুনানি কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি মাসেই হতে পারে। শুনানি শেষে আদালত জামিন দিলেই মুক্ত হতে পারবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার হস্তক্ষেপ না করলে চেয়ারপারসনের সাত দিনের মধ্যে জামিন পাওয়ার কথা। কারণ যেসব মামলা আছে সবই জামিনযোগ্য। এমন মামলায় আটকে রাখার বিষয়টি বাংলাদেশ কেন, বিশে^র ইতিহাসে বিরল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই সরকার এমনটা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দুবারের বিরোধীদলীয় নেতা। জামিন দিলে তিনি তো পালিয়ে যাবেন না।
রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আছে, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে পহেলা বৈশাখে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। পরে বিএনপি মহাসচিব গণমাধ্যমকে জানান, তারা প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্য জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, কেন তিনি প্যারোল চাইবেন? জামিন তো তার প্রাপ্য। এ সময় তিনি তাদের তার জামিনে মুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেন। সে বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, খালেদা জিয়ার মামলাগুলোর জামিনের প্রক্রিয়া তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে তার জামিন হচ্ছে না।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ৩৭টি। গত বছর জানুয়ারির শুরুতে সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৫টি মামলার কার্যক্রম বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করে। স্থান সংকুলান ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় এটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলে আসছেন, একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বিচার করতেই আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে বকশীবাজারে মামলাগুলোর এই স্থানান্তর। এই আদালতে নাশকতার নয়টি মামলার শুনানি হবে, যদিও এসব মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে। ওয়ান-ইলেভেন সরকার আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছিল। বাকি মামলাগুলো হয়েছে তারপর। এসব মামলায় দুর্নীতি, যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা থাকলেও বিচার কাজ চলছে তিনটির। মামলাগুলো হলোÑ নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলা। এ তিনটিসহ ৩৫ মামলায়ই তিনি জামিনে আছেন। জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হবে হাইকোর্টে। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন আবেদন করা হবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। এজন্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে।