তারেক-জোবাইদার যুক্তরাজ্যের ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নামে যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকের তিনটি হিসাব জব্দের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ওপর গত বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। তিনটি হিসাবই স্যান্টান্ডার ব্যাংক ইউকের।

দুদকের কৌঁসুলি খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের মানি লন্ডারিং আইনে উল্লেখ আছে কোনো আদালত যদি এ সংক্রান্ত আদেশ দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ এই আদেশকে সম্মান জানাবে। আর অন্য কোনো দেশের মানি লন্ডারিং আইনে যাই থাকুক না কেন, ওই দেশের কোনো আদালত যদি আমাদের আদেশ করে, তাহলে সেই আদেশ পারস্পরিক আইনি

 সহযোগিতার ভিত্তিতে পালনে সম্মান দেখানো হবে। বছর দেড়েক আগে এভাবে হংকংয়ে থাকা মোরশেদ খানের (সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা) একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল।’    

তিনি আরও জানান, আদালতের এই আদেশের একটি করে কপি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা, দুদক ও ব্রিটেনের ওই ব্যাংকের সিইওর কাছে যাবে এবং এর ভিত্তিতে ওই দেশের ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। 

এ মামলায় দুদকের কৌঁসুলি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর দেশ রূপান্তরকে জানান, এই অনুমতি সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে গত বুধবার শুনানি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার আদেশটি তাদের হাতে আসে। তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতার ভিত্তিতে ওই দেশের ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ এই আদেশটি মানতে বাধ্য থাকবে।’

মামলার আবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এবং অর্থপাচারপূর্বক বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগে তদন্ত টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্যান্টান্ডার ব্যাংক ইউকে পরিচালিত হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু  কনসালট্যান্ট লিমিটেড শীর্ষক প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৫৯ হাজার ৩৪১ দশমিক ৯৩ ব্রিটিশ পাউন্ড স্থানান্তর এফআইইউ (ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট) ইউকের নির্দেশে আটক আছে। এই অর্থ তারা অন্যত্র হস্তান্তর বা রূপান্তরের চেষ্টা করছেন। তাই এ অর্থের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না বিধায় রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই আইনের ১৪ ধারা মতে ওই ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। দুর্নীতির দুই মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছর ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান স্ত্রী সন্তানসহ লন্ডনে রয়েছেন।