না.গঞ্জে বিএনপির কার্যক্রম স্থবির, শীর্ষ নেতারা নিষ্ক্রিয়

দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোনো কার্যক্রম নেই। মাঠে নেই জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলের পদধারী দায়িত্বশীল নেতারা নিষ্ক্রিয় থাকায় ক্ষোভ জমেছে তৃণমূল পর্যায়ে। জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, পদ আঁকড়ে থাকা শীর্ষ নেতারা ‘গায়েবি’ মামলার আসামি হওয়ার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। তারা একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিও ক্ষুব্ধ।

গত নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে শরিক দলের প্রার্থী দেওয়ায় দলটির রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন নেতাকর্মী-সমর্থকরা। এমনকি দলের কোনো কর্মসূচিতেও দেখা মিলছে না বিএনপির এক সময়ের সক্রিয় নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি জেলার পাঁচটি উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিও স্থবির হয়ে পড়েছে।

গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয় নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা। দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় বিএনপির কোনো কার্যক্রম না থাকায় দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নাম নেওয়ার মতো লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তবে গত সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়নপ্রতাশী জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামি থেকে মনির হোসাইন কাশেমী নামে একজনকে ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরামকে ধানের শীষের প্রার্থী করার মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির ভবিষ্যৎকে কফিনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। তবে ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া জেলা বিএনপির নেতাদেরও দেখা পাচ্ছেন না তৃণমূল নেতারা। নির্বাচনের পর থেকে তারা গা ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরও এলাকায় নেই। এদিকে দলের এই বিপর্যয়ের মুহূর্তে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী দল ত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ হাত মিলিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে।

দলের তৃণমূল নেতাদের একাংশ বলছেন, ‘দলের ওপর যতই নির্যাতনের খড়্গ নামুক না কেন, আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। আমরা দলের নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’ তারা আরও বলেন, বিগত দিনে দল থেকে নির্দেশনার অভাবে তারা মাঠে নামতে পারেননি। এজন্য তারা দলের পদধারী নেতাদের অভিযুক্ত করেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা শত শত মামলায় জর্জরিত। রাজনীতি করার মতো পরিস্থিতি এখনো নারায়ণগঞ্জে সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা রাজপথে নামব।’