বাবার দেড় দশক পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মরল ছেলে

বগুড়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে রাফিদ আনাম স্বর্গ (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপশহর এলাকায় দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়। তালিকাভুক্ত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে আটটি মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, নিহত স্বর্গ শহরের ঠনঠনিয়া শহীদনগর এলাকার প্রয়াত লিয়াকত আলীর ছেলে। ২০০৪ সালের ১০ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে বগুড়ার সে সময়কার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী লিয়াতক আলী মারা যায়। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাত দেড়টার দিকে উপশহরের সুবিল খাল এলাকার ধুন্দল সেতুর কাছে দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে। তার পাশে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি ও একটি বার্মিজ চাকু পড়ে ছিল। তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয়রা ওই তরুণকে ঠনঠনিয়া এলাকার ‘স্বর্গ’ হিসেবে শনাক্ত করেন।’

পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী জানান, স্বর্গের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার প্রগ্রেস কোচিং সেন্টারে ঢুকে শরিফুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে খুন এবং ২০১২ সালে সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ছাত্র নিরঞ্জন চক্রবর্তী দীপু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি স্বর্গ ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিল। প্রায় দুই মাস আগে জামিনে বেরিয়ে আবারও ‘বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িয়ে পড়ে।

সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জামিন পেয়ে এলাকায় ফেরার পর শাজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর ও শহরের খান্দার-মালগ্রাম এলাকায় ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছিল স্বর্গ। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে শাজাহানপুর উপজেলার স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এছাড়া সদর থানার সাবেক এক ওসিকে হত্যার হুমকি দেয়। ২০০৪ সালে তার বাবা লিয়াকত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার সময় ওই ওসি বগুড়া সদর থানায় কর্মরত ছিলেন।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, লিয়াকত পেশাদার খুনি হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে বগুড়া বোর্ডিংয়ে কাশেম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু অল্পদিনেই জামিনে বেরিয়ে আসে। ২০০৪ সালের ১০ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় লিয়াকত। তখন স্বর্গের বয়স ছিল ১০ বছর। বাবার মৃত্যুর পর লেখাপড়া ছেড়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে।