প্রতিবছর রমজান মাস আসার আগেই বাড়তে শুরু করে মাছ, মাংস, সবজিসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। এ বছরও দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। পেঁয়াজ, আলু, সবজি থেকে মাংস সবকিছুই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে। তবে ডিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, কাঁঠালবাগান এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
কারওয়ান বাজারে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১০০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা পাল্লা, যা এক সপ্তাহ আগেও ৬৫ টাকায় বিক্রি হতো। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ ও আলুতে ২ টাকা বেড়েছে। শান্তিনগর এলাকার বাজারে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ২৮-৩০ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৫ টাকা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ও আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন পেঁয়াজ সাধারণত মজুদ করা কঠিন, তাই বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম কম ছিল। পেঁয়াজ পুরনো হয়ে আসায় তা মজুদ হচ্ছে ও দাম বাড়ছে। সামনে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানান তারা। আলুর দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের পাশাপাশি এবার আলুরও বাম্পার ফলন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা সস্তায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে আলুর সরবরাহ কমে আসায় দাম বাড়ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান মাসকে সামনে রেখে কারসাজি করে আলু-পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে রামপুরার ক্রেতা তামজিদ বলেন, ‘রোজায় আলু-পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। রোজা আসতে আর এক মাসও বাকি নেই। তাই আগে থেকেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রতিবছরই রোজার আগে বাজারে কঠোর তদারকি করা হবে, দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে মুনাফালোভীরা কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।’
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। সামনে দাম আরও কমতে পারে। কারণ রোজায় সাধারণত ডিমের চাহিদা কম থাকে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বাজার ও মানভেদে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো ও শসা। সপ্তাহের ব্যবধানে এ পণ্য তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০, সজনে ডাঁটা ৬০-৮০, বরবটি ৬০-৭০, কচুর লতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। প্রতি কেজি ধুন্দুল ৭০-৮০, বেগুন ৪০-৬০, মুলা ৪০-৫০, গাজর ৩০-৪০ ও ঢেঁড়শ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের মতোই বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭৫ টাকা কেজি দরে। লাল লেয়ার মুরগি ২১০-২২০, আর পাকিস্তানি কক বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকা কেজিতে। মুরগির মতো দাম অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের। বাজার ভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০-৫৫০ টাকা কেজি। আর প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকায়। মাংসের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজিতে। পাঙ্গাশ ১৫০-১৮০, রুই ৩৫০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৭০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০ ও চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০- ৮০০ টাকা কেজি দরে।