রানা প্লাজা ধসের ৬ বছর

দিনটিকে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক দিবস’ ঘোষণার দাবি

ছয় বছর আগে সাভারের বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসের ঘটনার দিনটিকে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক দিবস’ ঘোষণা, শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা ও হতাহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে একটি শ্রমিক সংগঠন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির উদ্যোগে ঘটনাস্থলের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে রানা প্লাজা ধসের ঘটনা স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর হতে চলছে। এখনো নিহত শ্রমিকদের পরিবার তাদের স্বজন হত্যার বিচার পায়নি। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ভবন মালিকসহ গার্মেন্টস মালিকদের বিচারের নামে কালক্ষেপণের কৌশল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের রক্ষার আয়োজন চলছে। একের পর এক কথিত দুর্ঘটনায় দেশের সবচেয়ে বেশি (৮৬ শতাংশ) বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের মূল কারিগর শ্রমিকরা প্রাণ হারালেও গার্মেন্টস সেক্টরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

তারা বলেন, মাত্র দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে মালিকদের শ্রমিক হত্যার দায় থেকে মুক্তি দিয়েছে সরকার, যার ফলে মালিকরা দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হওয়ার সাহস পাচ্ছে। তাই অবিলম্বে কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ৪৮ লাখ টাকা করাসহ দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করে আইন প্রণয়ন, আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা ঘটে বাংলাদেশের। রাজধানী ঢাকার অদূরে বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসে সেদিন এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, আহত হয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার। হতাহতদের প্রায় সবাই ওই ভবনে থাকা পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিক ছিলেন।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট-শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশের সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতাদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান বক্তারা। সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জীবন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাভার পৌর সাধারণ সম্পাদক কাওসার আহমেদ, আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি মিলন মিয়া, সহসভাপতি সাইদ মিয়া এবং রানা প্লাজার আহত শ্রমিক মাসুমা আক্তার ও সবুজ মিয়া বক্তব্য দেন।

‘অতীত ও বর্তমানের বোঝাপড়া’

গতকার বিকেল সাড়ে ৪টায় ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নিহত শ্রমিক ফজলে রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন। এতে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতারের তোলা রানা প্লাজা ধসের সাতটি ছবি বড় করে প্রদর্শন করা হয়।

সমাবেশে তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস নাইন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল শামা, সাভারের সংগঠক শাহ আলম, আহত শ্রমিক রূপালী, নিহত সান্ত¡নার বোন সেলিনা এবং রানা প্লাজার নিহত পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আহত শ্রমিকরা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার ছয় বছরেও শাস্তি হয়নি ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের।