তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রুবানা হক। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুল হকের স্ত্রী। বিজিএমইএর ৩৬ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী সভাপতি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সংগঠটির ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন পরিচালনা পর্ষদের কাছে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনটির বিদায়ী কমিটি সদ্য নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
সভার প্রথম অংশে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সদ্য বিদায়ী সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি রুবানা হক।
বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০১৭-২০১৮ সালের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী পাস হয় এবং ২০১৮-২০১৯ সালের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে গত ১১ এপ্রিল নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড সংগঠনটির দায়িত্ব বণ্টনের ফল ঘোষণা করে। গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিজিএমইএ ২০১৯-২১ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত- ফোরাম ৩৫টি পদের বিপরীতে ৩৫টি পদেই বিজয়ী হয়।
সভায় বিজিএমইএর নবনির্বাচিত পরিচালনা বোর্ড সদ্য বিদায়ী পরিচালনা বোর্ডের কাছ থেকে বিজিএমইএর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে নতুন কমিটির বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সিনিয়র সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি এস এম মান্নান (কচি), সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহিম (ফিরোজ), সহসভাপতি আরশাদ জামাল (দিপু), সহসভাপতি মো. মশিউল আজম (সজল), সহসভাপতি এ এম চৌধুরী (সেলিম) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সভায় সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত কমিটি অবশ্যই গার্মেন্ট খাতের উন্নয়নে কাজ করবে বলে আশা করি। বর্তমানে গার্মেন্ট খাত একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। বিজিএমইএর নতুন কমিটি এই ক্রান্তিকাল অতিক্রমে কাজ করবে বলে আশা করি।’ তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি বিজিএমইএ সদস্যদের কাছে কোনো সহযোগিতা চাইলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। আমরা সবাই মিলেমিশেই কাজ করব।’
সভায় রুবানা হক বলেন, ‘পুরো পরিষদ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমার প্রয়াত স্বামী আনিসুল হক সবাইকে দেখিয়ে গেছেন দুই বছরে কীভাবে পরিবর্তন আনতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের পোশাক খাত নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যে ইমেজ সংকট রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হবে। আমরা সবাই মিলে সর্বাত্মক চেষ্টা করব সেটা কাটিয়ে উঠতে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। কারণ প্রতিযোগিতাই হলো সবচেয়ে ভালো। যদিও আমরা সম্মিলিতভাবে দরকষাকষির জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। চেষ্টা করলে সেটা অসম্ভব না। বিশ^বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গার্মেন্ট সেক্টরে তেমন বড় সমস্যা না থাকলেও নানা সমস্যায় ভুগছে। এখন বায়ারদের কাছ থেকে ন্যায্য দাম পেলে সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।