বে-টার্মিনাল প্রকল্প

৮০৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু শিগগিরই

চট্টগ্রাম বন্দরের মেগা প্রকল্প বে-টার্মিনালের জন্য ৮০৩ একর সরকারি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে শিগগিরই। প্রাথমিক পর্যায়ে চলছে ফিল্ডবুক তৈরির কাজ। এর আগে অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি মালিকানাধীন ৬৮ একর জমির চূড়ান্ত গেজেট চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের উপব্যবস্থাপক (এস্টেট) জিল্লুর রহমান।

অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ‘বে-টার্মিনাল’ বাস্তবায়নে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার। প্রকল্পটির অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ আজ রবিবার আসছেন বলে চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের তীরে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট এলাকায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘বে-টার্মিনাল’। এই প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত মোট ৮৭১ একর জমির মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৮ একর অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ জমির জন্য ৩৬৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ মার্চ বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য ৮০৩ একর খাসজমি বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি। ফলে প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে। এখন ওই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ভূমি বরাদ্দ কমিটিতে অনুমোদন হওয়ায় এখন অধিগ্রহণের অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে ফিল্ড বুক তৈরি করা হবে। এরপর প্রস্তাবিত জমির মূল্য নির্ধারণ করে তা ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অনুমোদন দিলে জমির মূল্য পরিশোধ ও হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উপব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মৌজা রেট হিসাব করে বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত সরকারি জমির মূল্য হিসেবে আমরা সরকারের কাছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার গ্যারান্টি দিয়ে রেখেছি।’ বে-টার্মিনাল প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একটি। তাই জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে অন্য প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত বছর ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করেছে বন্দর। এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একটি ১ হাজার ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে মাল্টিপারপাস টার্মিনাল, একটি ১ হাজার ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে কনটেইনার টার্মিনাল ও অন্যটি ৮৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে কনটেইনার টার্মিনাল-২। প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত ৬৮ একর জায়গায় প্রথম পর্যায়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল তৈরির কাজে হাত দিয়েছে বন্দর। সেখানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল তৈরিতে ১৪ মাসের মতো সময় লাগবে। তখন চট্টগ্রাম বন্দরে আসা এলসিএল কনটেইনারের পণ্য বে-টার্মিনাল থেকেই ডেলিভারি দেওয়া হবে। বর্তমানে এলসিএল পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬-৭ হাজার ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। পণ্য ডেলিভারিকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর সড়কসহ বন্দরের আশপাশের সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। বে-টার্মিনাল থেকে পণ্য ডেলিভারি শুরু হলে বন্দরকেন্দ্রিক যানজটের অবসান হবে বলে অভিমত বন্দর কর্মকর্তাদের।

বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত সরকারি খাসজমির অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম। বলেন, বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের প্রবৃদ্ধি ও গতি ধরে রাখতে দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বেশ আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার অনাপত্তিপত্র প্রাপ্তি ও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘ সময় চলে গেছে। কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি ৮০৩ একর সরকারি জমি প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে। তাই প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যেতে আর কোনো বাধা থাকার কথা নয়।