‘উনি শুনেছেন। হেসেছেন। কিন্তু না বলেননি।’ বাংলা থেকেই ভোটে লড়বেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি? শনিবার জল্পনাটা ফের উসকে দিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।
এ দিন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বুনিয়াদপুরে নির্বাচনী সভা ছিল মোদির। সভার শেষে মুকুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জল্লাদ বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে, বাংলায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এই রাজ্য থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি।’ জবাবে কী বলেছেন মোদি? মুকুলের বক্তব্য, উনি কোনো ইতিবাচক জবাব না দিলেও সরাসরি ‘না’ বলেননি।
আর এতেই নড়েচড়ে বসেছে এই বঙ্গের গেরুয়া শিবির। বাতাসে ভাসতে শুরু করেছে নানা জল্পনা। এরই মধ্যে দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ সংসদীয় কেন্দ্রে নির্বাচন হয়ে গেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও পাঁচ কেন্দ্রে ভোট। মুকুলের বক্তব্য, অবশিষ্ট চার দফায় রাজ্যের আরও ৩২ কেন্দ্রে
ভোট বাকি। এর যেকোনো একটি কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতেই পারেন।
তবে এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বঙ্গ বিজেপির অন্য নেতারা। কেউ কেউ মুকুলের এই বক্তব্যকে ‘গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে দলের একটা অত্যুৎসাহী অংশ এখনো আশাবাদী। এই সঙ্গে তারা এ কথাও মানছেন যে, বাংলায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ‘নিরাপদ আসন’ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বলা বাহুল্য, ঝুঁকি আছে এমন কোনো আসনে মোদিকে প্রার্থী করতে চাইবে না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। উত্তরবঙ্গে বিজেপির প্রভাব ভালো, কিন্তু ওই অংশের সব কেন্দ্রের নির্বাচন প্রায় সাঙ্গ।
রইল বাকি দক্ষিণবঙ্গে বিজেপির জেতা আসন আসানসোল, যেখানে এবারও দলের টিকিটে লড়ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ওই কেন্দ্রের বিজয়ী সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। কারগ্রাম, পুরুলিয়াতেও বিজেপির জনসমর্থন বেড়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেটা বোঝা গেছে। এই দুই কেন্দ্রে ভোট আগামী ১২ মে।
বিজেপি সূত্রের খবর, বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে মোদিকে প্রার্থী করার দাবি উঠেছে দলের একাংশের মধ্য থেকে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর কাছে একটি লিখিত প্রস্তাবও পাঠিয়েছে দুর্গাপুরের বিজেপি নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়। সে চিঠির উত্তর এখনো দলীয় হাইকমান্ডের কাছ থেকে এসে না পৌঁছলেও আশা ছাড়েননি তারা। দার্জিলিংয়ের বিদায়ী সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া এবার বিজেপি প্রার্থী দুর্গাপুর কেন্দ্রে। বর্ধমান জেলার দুই শিল্পতালুকÑ আসানসোল ও দুর্গাপুরে ভোট ২৯ এপ্রিল।
বাংলার ৪২ কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করে দিলেও, খোদ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হলে দলের যে কেউ আত্মত্যাগে এক পায়ে খাড়া হয়ে যাবেন বলেই মনে করছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।
বারানসি থেকে প্রার্থী হচ্ছে মোদি। এরই পাশাপাশি দেশের অন্য যেকোনো একটি কেন্দ্র থেকেও তিনি দাঁড়াতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে বাতাসে ভাসছিল গজরাটের ভাদোদরার নাম। এমন খবরও ছিল যে, মোদি প্রার্থী হতে পারেন কলকাতা অথবা পুরীতে। শুধু বাংলা নয়, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বিশেষ নজর রয়েছে বিজেপির। এবার উত্তর ভারতে গেরুয়া দলের আসন সংখ্যা কমার সম্ভাবনা প্রবল। এই ঘাটতিটা বিজেপি পূরণ করে নিতে চায় পূর্ব ভারত থেকেই। কেননা দক্ষিণে দলের উপস্থিতি (কর্নাটক বাদে) তেমন সাবলীল নয়।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। এদিন নিয়ে উপর্যুপরি পঞ্চম দফা রাজ্য সফরে এলেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি। কলকাতা-শিলিগুড়ি মিলিয়ে সভা করলেন সাতটি। নির্বাচন পর্বের সাত দফায় অন্তত ১৬টি প্রচার সভা করার কথা তার। বাংলায় প্রচারে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথ, স্মৃতি ইরানির মতো দলের রাঘববোয়ালদের। এবং সবারই নিশানায়, মমতার জমানা।
কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গের জনসভায় চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলন মমতা, মোদি-অমিত শাহ বাংলায় ভোট লড়ে দেখান। চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করুন মোদি, মনেপ্রাণে চাইতে বঙ্গ বিজেপি।