মা-বাবার নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু আশামনি

ফুফুর কাছে বেড়ে ওঠা চার বছরের শিশু আশামনি। জন্মের পর থেকে মাকে কাছে না পেয়ে ফুফুকে মা বলে বলে ডাকত। এই অপরাধে তাকে খেতে দিত না তার বাবা মা। খেতে চাইলেই নির্দয়ভাবে মারধর শুরু করে বাবা-মা।

সারা শরীরের আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আহত আশামনি উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

শিশুটিকে মারধরের ঘটনায় অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, পাষণ্ড বাবা আশরাফুল ইসলামকে পুলিশে দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম উপজেলার ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের মাদারটারী গ্রামে।

এলাকাবাসী জানায়, আশামনির বাবা-মা তার জন্মের পর তাকে তার ফুফুর কাছে রেখে, ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করত তারা। মাস চারেক আগে বাড়ি ফিরে এসে আশামনিকে তাদের কাছে ফিরিয়ে নিলেও, সে তার ফুফুকেই মা বলে ডাকত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা-মা মিলে শিশু আশামনিকে নির্যাতন করত।

সোমবার সকাল থেকে ক্ষুধার্ত শিশু আশামনি খেতে চাইলে আশরাফুল আলম ও ফাতেমা বেগম শিশুটির মুখ বেঁধে বেধড়ক মারপিট শুরু করে।

পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে এবং বাবা-মাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ শিশুটির বাবাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

শিশুটির জ্যাঠা জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়ত তার ছোট ভাই আশরাফুল শিশুটিকে মারপিট করে। বহুবার আমি তাকে অনুরোধ করার পরও ক্ষান্ত হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, কোনো বাবা-মা নিজের সন্তানকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে তা দেখিনি। শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অভিযুক্ত শিশুটির পিতা আশরাফুল আলমকে আটক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে শিশুটিকে নির্যাতন না করা হয়, সে জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।