চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহতদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেলের মূল হত্যাকারী আর অন্যজন ছিনতাইকারী। গত সোমবার নগরীর আগ্রাবাদে ও আছাদগঞ্জে বন্দুকযুদ্ধের এসব ঘটনা ঘটে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে কুমিল্লা সদর উপজেলার গোলাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আরেক যুবক নিহত হয়েছে। বিজিবির দাবি, তিনিও মাদক কারবারি। ব্যুরো অফিস ও নিজস্ব প্রতিবেদকের পাঠানো খবর :
চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ জানান, সোমবার রাত ১২টার দিকে পুলিশের কাছে সংবাদ আসেÑ পাহাড়তলী চালবাজারের তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল হত্যায় জড়িতরা আগ্রাবাদের জাম্বুরী পার্কে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে সেখানে অভিযান চালাতে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে তারা পালিয়ে গেলে পুলিশ গুলিবিদ্ধ জাভেদ হোসেনকে (২১) উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে। বন্দুকযুদ্ধে তিনিসহ এসআই অর্নব, মিঠু ও কনস্টেবল আলামিন আহত হয়েছেন জানিয়ে ওসি বলেন, নিহত জাভেদ মহিউদ্দিন সোহেলের মূল হত্যাকারী।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, সোমবার বিকেলে নগরীর আছাদগঞ্জ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওয়াসিম উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওয়াসিমের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতির ১৩ মামলা রয়েছে।
কুমিল্লায় নিহত আবদুল মালেক (৩০) চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের খালেকের ছেলে। বিজিবি বলছে, গতকাল ভোররাতে সদর উপজেলার গোলাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় তাদের সঙ্গে মাদক কারবারিদের বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারা যান। কুমিল্লা-১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, গোপন খবরে হাবিলদার আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে গোলাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক কারবারিরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরাও পাল্টা গুলি করলে ঘটনাস্থলে মালেক মারা যান। এ সময় তার ব্যাগ থেকে ২৯ হাজার ৮৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, মালেকের লাশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।