‘ভালোবাসার রঙ’ চলচ্চিত্র দিয়েই অভিনয় জগতে প্রবেশ করেছেন বাপ্পি চৌধুরী। একের পর এক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। নায়ক বাপ্পি এবং ব্যক্তি বাপ্পির জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন উম্মে রাহী। ছবি : নূর
নায়ক হলেন কেন?
নায়ক নয় সমাজসেবী হতে চেয়েছি। এক্ষেত্রে বাবাই ছিলেন অনুপ্রেরণা। তিনি সুতা ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছেন। বেশ পরিচিতি ছিল তার। বাবার এই খ্যাতি আমার মধ্যে ভালোলাগা তৈরি করত। আর তাই নিজেকে দেশের সকল মানুষ চিনবে সেই সঙ্গে ভালোবাসবে এই ভাবনা থেকে চলচ্চিত্রে আসা।
আপনার আকর্ষণীয় দিক কী?
আমার চোখ। আমি মনে করি আমার চোখের প্রতি মানুষ বেশ আকর্ষণবোধ করে। তাছাড়া কাজের ক্ষেত্রে আমার অন্যতম দিক হলো আমার কর্মদক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস।
নায়ক বাপ্পি এবং ব্যক্তি বাপ্পির পার্থক্য কী?
তেমন কোনো পার্থক্য নেই। কেননা নিজের ভেতরে আমি নায়ক আলাদা একজন মানুষ এই ধরনের কোনো অহমিকা কখনো কাজ করেনি।
ছোট্ট এই জীবনে বড় অর্জন কী?
দর্শকদের ভালোবাসা এবং বন্ধুর মতো একজন মা।
মিডিয়া জগৎ নিয়ে ভাবনা কী?
বিশেষ কোনো ভাবনা নেই। তবে এই জগতের মানুষগুলো তিন ধরনের চরিত্র প্রকাশ করে থাকে। ক্যামেরার সামনে, ক্যামেরার পেছনে এবং ব্যক্তি জীবনে। আমি ক্যামেরার সামনে এবং পেছনের রোল প্লে করে
থাকি কেননা ক্যামেরার পেছনের বাপ্পি এবং ব্যক্তি জীবনে বাপ্পি একজনই।
২০১৭ সালে বিয়ের ঘোষণা দিয়েও এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি কেন?
বিয়ের ক্ষেত্রে একটু ভেবেচিন্তে এগোচ্ছি কেননা বিয়ে জীবনে একবারই করব, আর যাকে বিয়ে করব তাকে কখনো ডিভোর্স দেব না। আপন করে নেব তবুও ডিভোর্স দেব না। আর কিছু হোক না হোক বউয়ের সঙ্গে কখনো গোস্্সা করব না। আর বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই বিয়ে করতে চাই। তাই একটু সময় নেওয়া।
গুজব নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?
সত্যি কথা বলতে আমি গুজবে কান দিই না। তবে গুজব একজন মানুষের অনেক ক্ষতি করে দেয়। আর সেই ধাক্কা সামলিয়ে ওঠার মতো মনোবল অনেকেরই থাকে না। আমার মতে বেকার মানুষরাই গুজব ছড়িয়ে থাকে। তাদের উদ্দেশে বলব গুজবের মতো নোংরা কাজ থেকে বিরত থাকুন।
আপনার অভিনীত চলচ্চিত্রের নামে ভালোবাসা ও প্রেম এই শব্দ দুটি থাকে এর কারণ কী?
আমার লুকটা হয়তো রোমান্টিক চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে যায় তাই।
শুধুই কি রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করতে চান?
না, আমি ভিন্ন কিছু চরিত্রে অভিনয় করতে চাই যা বাংলাদেশের মানুষ এখনো দেখেনি। মূলত সংগ্রামী চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই। সৈনিক ও ক্রিকেটার হলো আমার স্বপ্নের চরিত্র।
নায়ক হতে হলে কী করণীয়?
একজন হিরোকে অবশ্যই অলরাউন্ডার হতে হবে। বিশেষ করে ডান্স, ফাইট এবং লুকটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ নায়ক হতে হলে। তা ছাড়া ভাগ্য থাকা লাগবে। আমি মনে করি ভাগ্যে থাকলে যে কেউ নায়ক হতে পারে।
অভিনয়ের পাশাপাশি কী করতে ইচ্ছুক?
অভিনয়ের পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা হতে চাই। যেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এছাড়া বাবার মতো সমাজসেবক হতে চাই।
নিজের একটি সমালোচনা করুন
আমি অনেক বোকা। খুব সহজেই মানুষ আমাকে বোকা বানাতে পারে। কেননা আমি সবাইকে খুব আপন করে নিই। যার সুযোগ অনেকে নিয়ে থাকেন।
মিডিয়ায় কাজ করতে গিয়ে কি ধরনের বাধার সম্মুখীন হন?
বাধার সম্মুখীন হইনি তা বলব না। তবে মিডিয়ার মানুষের সঙ্গে আমার বোঝাপড়ায় কিছুটা গলদ আছে। কেননা আমি স্রোতের বিপরীতে চলতে ভালোবাসি। নিজের নিয়মে চলতে ভালোবাসি। আর তাই কাজ করতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে বনিবনা হয় না।
আপনি কষ্ট পান কিসে?
কাছের মানুষ যখন চোখে ধুলো দিয়ে আমার আড়ালে আমার সমালোচনা করে থাকে। যখন কেউ বিশ্বাস ভঙ্গ করে তখন।