মাদ্রাসা থেকে পানি নেয়ায় নারীকে বেধড়ক মারধর (ভিডিও)

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মাদ্রাসার রিংওয়েল থেকে পানি নেয়ার ঘটনায় ছলেমা খাতুন নামে এক নারীকে মারধর করেছেন মাদ্রাসার দুই শিক্ষক। এ ঘটনায় মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনায় জড়িত না থাকায় অপর এক শিক্ষকসহ মাদ্রাসা পরিচালকের স্ত্রী ইসমত আরাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর পূর্ব নির্ধারিত মাদ্রাসার বার্ষিক ধর্মীয় সভা স্থগিত হয়ে যায়। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসার বাবুর্চি আম্বিয়া খাতুন জানান, আলীকদম ফয়জুল উলুম মাদরাসার বার্ষিক সভা উপলক্ষে মাদ্রাসার রিংওয়েল থেকে আশপাশের প্রতিবেশীকে মঙ্গল ও বুধবার পানি না নিতে অনুরোধ জানানো হয়।

তিনি বলেন, কিন্তু অনুরোধ অমান্য করে মো. আলম মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে পানির মোটরের সুইচ টিপে পানি উত্তোলন করতে গেলে ছাত্ররা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষে হাতাহাতি হয়।

তিনি আরো বলেন, এ সময় মাদ্রাসা পরিচালক শামশুল হুদা সিদ্দিকীসহ অন্য শিক্ষকরাও আলমকে বাধা দেয়। এরপর আলম তার মা ছলেমা খাতুন ও তার বোনকে মাদ্রাসায় ডেকে আনে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, মো. আলমকে পানি নিতে বাধা দেওয়ার পর আলমের মা ছলেমা খাতুন ও তার বোন মাদ্রাসায় এসে পরিচালক মাওলানা শামশুল হুদা সিদ্দিকীককে গালিগালাজ করে তার কাপড় ধরে টানাটানি করেন।

তিনি বলেন, অন্য শিক্ষকরা তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মাদ্রাসা পরিচালক শামশুল হুদা ওই নারীকে চড়-থাপ্পর মেরে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেন।

এ ঘটনা অদূরে দাঁড়িয়ে ভিডিও করে ছলেমার বড় ছেলে মো. আলম ও তার ভাই রফিক। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এ ঘটনা পুলিশ জানতে পেরে দুপুর ১২টার দিকে উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে আসে।

ফেসবুকে এ ঘটনার মারামারি সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশিত হলে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ১টায় মাদ্রাসায় অভিযান চালায়।

এ সময় মাদরাসা কক্ষ থেকে শিক্ষক হাফেজ আলমগীর, মাহমুদুল করিম ও মুফতি শফিউল আলম এবং মাদ্রাসা পরিচালক শামশুল হুদা সিদ্দিকীর স্ত্রী ইসমত আরাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়।

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ রফিক উল্লাহ বলেন, ফেসবুকে মারামারির ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর ছলেমা খাতুন বাদী হয়ে মাদরাসা পরিচালকসহ চার শিক্ষকের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।