ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দুই দফা সময় নিয়েও তদন্ত শেষ করতে পারেনি জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। গত ২১ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদ শেষেও কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি বলে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, গত রবিবার তদন্তপ্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু তদন্ত দলের প্রধান পি কে এম এনামুল করিম ফেনীর বাইরে থাকায় প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ওই কমিটির সদস্য সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল পারভেজ বলেন, ‘তদন্তের পুরো কাজ এখনো সমাপ্ত করতে পারিনি। প্রতিবেদন জমা দিতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে।’
গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পরদিন এনামুল করিমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। ইউএনও ছাড়াও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী সলিম উল্লাহকে কমিটিতে সদস্য করা হয়। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও ১০ এপ্রিল প্রথম দফায় সাত দিন ও পরে আরও সাত দিন বাড়ানো হয়।
এ সরকারের আমলে ধর্ষণ সবচেয়ে বেশি : আফরোজা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেছেন, ‘এই সরকার নিজেকে নারীবান্ধব দাবি করলেও এই সরকারের আমলেই সবচেয়ে বেশি নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলায় আমাদের কারাবন্দি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। গতকাল বুধবার দুপুরে সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন।
একই দিন শহরের ফেনী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি ফেনী জেলা শাখা। সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তারা নুসরাত হত্যার সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসির দাবি জানায়।
ওসি মোয়াজ্জেমের মামলা তদন্তে সোনাগাজীতে পিবিআই
নুসরাত হত্যার ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার তদন্তে গতকাল বুধবার বিকেলে পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিমা সুলতানার নেতৃত্বে একটি দল সোনাগাজীতে আসে। তারা সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন ও সোনাগাজী মডেল থানার এসআই করিমুল হকের সঙ্গে কথা বলেন।
গত ২৭ মার্চ নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি তার মোবাইলে নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করেন। ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নুসরাতের মৃত্যুর পর এ ঘটনায় মামলা হয়।
জানতে চাইলে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিমা সুলতানা বলেন, ‘আজকে (বুধবার) আমরা থানার কার্যক্রম শেষ করেছি। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’