স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসন চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি

স্ট্রোক কী?

 

মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহ কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে রক্তের অভাবে ব্রেইনের কিছু টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা মারা যায়, এটাই হলো ব্রেইন স্ট্রোক। বিশেষ করে রক্তনালি ব্লকড হয়ে গেলে কিংবা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে ব্রেইনের রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। ফলে ব্রেইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত ও পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না কারণ রক্তের মাধ্যমে এসব উপাদান ব্রেইনে পৌঁছে থাকে। ফলে অক্সিজেনের অভাবে ব্রেইন টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস

স্ট্রোক পরবর্তী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরের এক পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয় এবং কারও কারও কথা বলতে সমস্যা হয়। কিছু কিছু মানুষের চোখেও সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ ব্রেইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ওপর নির্ভর করে শরীরে সমস্যা দেখা দেয়। কারণ ব্রেইনের এক এক অংশ শরীরের এক এক অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

আমাদের হাঁটাচলা, কাজকর্ম, কথা বলা, চোখে দেখা এবং আবেগ অনুভূতি সবকিছুই ব্রেইনের ভিন্ন ভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ব্রেইনের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব কাজেরও বিঘœ ঘটে।

আমাদের ব্রেইনের ডান দিকের অংশ শরীরের বাম দিকের অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে ও বাম দিকের অংশ শরীরের ডান দিকের অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং কারও যদি ব্রেইনের ডান দিকে স্ট্রোক হয়, তাহলে শরীরের বাম পাশের হাত-পা প্যারালাইসিস হবে। যেহেতু আমাদের কথা বলা নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেইনের বাম অংশ সেহেতু কারও যদি বাম পাশে স্ট্রোক হয় তাহলে ডান হাত-পা প্যারালাইসিস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কথা বলাতেও সমস্যা হতে পারে।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

বিভিন্ন ওষুধ রোগীকে মেডিক্যালি স্থিতিশীল করতে পারলেও তার শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে না। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের মূল লক্ষ্যই হলো স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যাগুলো নির্ণয় করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এর জন্য দরকার সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। তাই কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে অতি দ্রুত কাছাকাছি হাসপাতেলে নিয়ে যাবেন এবং রোগী কিছুটা স্ট্যাবল হলে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করবেন। মনে রাখবেন স্ট্রোকের পর যত তাড়াতাড়ি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা যাবে, রোগীর কার্যক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।

একজন গ্র্যাজুয়েট ফিজিও থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে স্ট্রোক পরবর্তী ফিজিওথেরাপি নিশ্চিত করবেন। মনে রাখবেন ভুল ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। বর্তমানে অত্যাধুনিক ফিজিও থেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।