অ্যান্টিবায়োটিকের অবাধ বিক্রি

ব্যবস্থা নিতে সরকারকে হাইকোর্টের নির্দেশ

যথাযথ তত্ত্বাবধান ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ আদেশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সব সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসককে পরিপত্র জারি করতেও বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে বলা হয়েছে, যথাযথ তত্ত্বাবধান ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না? স্বাস্থ্য ও জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সব জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ ও দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় এ সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত বুধবার হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

গত ২২ এপ্রিল ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সবচেয়ে বড় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ৮০ ভাগ মৃত্যুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সুপারবাগ দায়ী। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকেই রোগীরা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে ব্যবহার করেন। আবার মানুষের ব্যবহৃত ওষুধ বেশি লাভের আশায় পশুর ওজন বাড়াতেও প্রয়োগ করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক চিকিৎসককে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি প্রয়োজন।

গতকাল আদেশের পর ব্যারিস্টার সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের এই আদেশের পরে কার্যত ব্যবস্থাপত্র ছাড়া দেশে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি আর হতে পারে না। এখন সিভিল সার্জন ও ডিসিরা যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেন, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচানো যাবে।’