আবজাল-রুবিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির জন্য কুখ্যাতি লাভ করা আবজাল-রুবিনা দম্পতিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আবজাল-রুবিনা দম্পতির বিরুদ্ধে এটাই দুদকের প্রথম মামলার অনুমোদন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি কেনার নামে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের বৈঠকে এই মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিশনের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, শিগগিরই থানায় এই মামলা করা হবে। মামলায় কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ তার কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকেও আসামি করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি-অনিয়মের অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক শামসুল আলম জানান, আবজাল-রুবিনার দুর্নীতিতে সহযোগিতার অভিযোগে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে মোট ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে কমিশনে পাঠানো হয়। পরে কমিশন প্রতিবেদন অনুমোদন দেন। যাদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. রেজাউল করিম, আবজালের স্ত্রী ও রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুবিনা খানম, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র সাহা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ও প্রি-সার্ভিস এডুকেশনের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশিদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সুকোমল বড়–য়া, জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের এসএএস সুপার (বর্তমানে অব.) সুরজিত রায় দাস, কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের অডিটর পঙ্কজ কুমার বৈদ্য, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের হিসাব রক্ষক হুররমা আক্তার খুকি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার উচ্চমান সহকারী মো. খায়রুল আলম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে রুবিনা খানমের রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করেন। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা কোনো ধরনের যাচাই বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বিল পাস করিয়ে এই টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া তারা ব্যাকডেটে বিলসমূহ পাস করে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে ৩০ কোটি টাকা দিয়েছেন। হুররমা আক্তার খুকি বিল বাউচারগুলো প্রস্তুত করে তা হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দিয়েছেন।