বরগুনায় ৩৪৮ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ

বরগুনার ৬ উপজেলায় ৮০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেখা দিয়েছে ফাটল। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। নতুন ভবন না হওয়ায় বা সংস্কারের অভাবে কিছু বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় ২৩০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে ১০৪টি। আমতলী উপজেলায় ১৫৩-এর মধ্যে ৬৮টি, তালতলীতে ৭৯-এর মধ্যে ৪৭টি। পাথরঘাটায় ১৪৯-এর মধ্যে ৭৪টি, বামনায় ৬২-এর মধ্যে ৯টি এবং বেতাগীতে ১২৭-এর মধ্যে ৪৬টি বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ।

গত ৬ এপ্রিল তালতলী উপজেলার পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদের বিম ধসে এক শিক্ষার্থী নিহত ও পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ১২ এপ্রিল আমতলী উপজেলার তক্তাবুনিয়া জগৎচাঁদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদর উপজেলার ১০ এপ্রিল বরগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে এ দুটি বিদ্যালয়ে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সরেজমিনে তালতলীর কটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এগুলোর পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে। বিম ও ছাদ অনেকটা বিধ্বস্ত, দেয়ালগুলো স্যাঁতসেঁতে ও দরজা-জানালা ভাঙা। কোনো রকমে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের অবস্থা এতই নাজুক, ভেঙে পড়ার ভয়ে সেখানে পাঠদান বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠ কার্যক্রম চলছে।

ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম কবীর বলেন, বরগুনা উপকূলবর্তী জেলা হওয়ায় লবণাক্ততা ও আবহাওয়ার কারণে ভবনগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ভবনের বাহ্যিক দিক বিবেচনা করে বিদ্যালয়গুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি।’