শ্রীলঙ্কার হামলাকে ভোটের হাতিয়ার বানাচ্ছে বিজেপি

শ্রীলঙ্কা সরকার চাইলে ইস্টার সানডের দিনে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহত করতে পারত এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ বেশ কয়েকটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা শ্রীলঙ্কার কর্র্তৃপক্ষকে ওই হামলার ব্যাপারে প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই জানিয়েছিল। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা এবং প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্টের খবর পৌঁছায়নি।

গত বছরে শ্রীলঙ্কায় সংবিধান সংক্রান্ত জটিলতা এড়িয়ে এই দুই ব্যক্তি ক্ষমতায় টিকে আছেন। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা জাতীয় নিরাপত্তার মতো ইস্যু থেকে প্রধানমন্ত্রীকে খারিজ করতে চাইছেন। কোনো সন্দেহ নেই আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনে এই বিষয়টি ভূমিকা পালন করবে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান সরকার কখনো জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেনি।

ভারতে এখন লোকসভা নির্বাচন চলছে। নির্বাচনের কিছুদিন আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনাদের

কনভয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়। কাশ্মীরে এত সেনা উপস্থিতি এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে কীভাবে এমন সন্ত্রাসী হামলা হলো, এই প্রশ্নে বিদ্ধ ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি। নিজের দেশে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হলেও বিজেপি শ্রীলঙ্কার হামলার ঘটনাকে নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারে শ্রীলঙ্কার মতো ভুগতে না চাইলে সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি ভোট দিতে জনগণকে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রচারে মোদি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদকে এগিয়ে রেখেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামার হামলার পরই মূলত মোদি জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুকে সামনে আনতে শুরু করে। আর এ ক্ষেত্রে মোদি ও তার দল বিজেপি হামলা চালাতে শুরু করে বিরোধী দল কংগ্রেসকে। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ এক সপ্তাহ আগেই এক র‌্যালিতে বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনী যখন বালাকোটে হামলা চালিয়ে আসে, তখন দুই জায়গায় শোক পালন করা হয়। তা হলো পাকিস্তানে এবং কংগ্রেসে।’ কয়েক বছর আগে গুজরাটে নির্বাচনের আগে মোদিও একই সুরে কথা বলেছিলেন। তখন মোদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপনে আলাপ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

মোদি এবং বিজেপির পক্ষে খুব সহজ নিরাপত্তার ইস্যুকে কাজে লাগানো। যদিও এটা তাদের নির্বাচনের প্রধান ইস্যু ছিল না। বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যুকে এড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে ব্যবহার করতে চাইছে ভোটারদের ভোট পেতে। পুলওয়ামার ঘটনার পর যে প্রশ্নগুলো করা দরকার ছিল তা করেনি বিজেপি। উল্টো দোষারোপের রাজনীতি শুরু করে। কেন এই হামলা হয়েছে? কোন গ্রুপ ওই হামলা করেছে এবং তারা কীভাবে এতটা শক্তি অর্জন করেছে? কীভাবে এমন হামলা প্রতিহত করা যায়? এমন একটি প্রশ্নও করেনি বিজেপি সরকার।