কন্ডিশনের কারণে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তার মতে পেসারদের কম গতি ভোগাতে পারে বাংলাদেশকে। তবে টাইগারদের নেতৃত্বে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা আছেন বলেই আশাবাদী হচ্ছেন আশরাফুল।
আশরাফুল ও মাশরাফীর বাংলাদেশ দলে অভিষেক পাশাপাশি সময়ে। দুজনে খুব ভালো বন্ধুও। সতীর্থরা মাশরাফীকে ম্যাশ আর আশরাফুলকে অ্যাশ ডাকেন। ২০০৯ সালে মোহাম্মদ আশরাফুলের হাত থেকেই প্রথমবার বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব পান মাশরাফী।
তবে ইনজুরির কারণে ধারাবাহিকভাবে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে পারেননি মাশরাফী। ২০১৪ সালের শেষ দিকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব নিয়ে মাশরাফী বদলে দেন দলের চেহারা। ২০১৫ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে খেলেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল।
টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও মাশরাফী ওয়ানডে খেলে চলেছেন। তার নেতৃত্বেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে খেলবে বাংলাদেশ। আশরাফুল তাই আশাবাদীই হচ্ছেন।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে বলতে গিয়ে দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা আশরাফুল বলেন, ‘‘এটা নিয়ে আমরা পাঁচ নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপের হিসেবে আমি বলব যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল। পাঁচজন ক্রিকেটার আছেন যারা ১২ বছরের ওপরে খেলছেন। যেহেতু এবারের ফরম্যাট একটু ভিন্ন, লাস্ট তিনটা বিশ্বকাপে কিন্তু সফল, আমরা তিনটা করে জয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এবারে যদি সেমিফাইনালে যেতে হয়, আমাদের কমপক্ষে ৫-৬টা ম্যাচ জিততে হবে।’’
বোলিং নিয়ে চিন্তার কথা বেরিয়ে এল আশরাফুলের কণ্ঠে, ‘‘যে ধরনের উইকেটে খেলা হবে এবং আমাদের বোলারদের যেই গতি, এই জায়গায় মনে হয় আমরা একটু পিছিয়ে থাকব। আমাদের শুধু রুবেল ১৪০ গতিতে বল করতে পারে, বাকিরা ১৩০-১৩৫ এইরকম।’’
তবে এই জায়গাটা অধিনায়ক মাশরাফী আছেন বলেই আশা দেখছেন আশরাফুল, ‘‘আমাদের একটা অ্যাডভান্টেজ থাকবে যে মাশরাফী অধিনায়ক। কারণ সে বেষ্ট ক্যাপ্টেন। ভালো একটা লিডার থাকলে এই সব ছোটখাটো জিনিস গুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে।’’
‘‘সিনিয়ররা যদি তাদের সেরাটা দিতে পারে এবং জুনিয়ররা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারে, তাহলে ভালো কিছু আশা করতে পারি। কিন্তু ম্যাচপ্রতি চিন্তা করলে একটু কঠিন। ওই ধরনের কন্ডিশনে আমাদের থেকে বাকি দল গুলো একটু এগিয়ে।’’
আশরাফুল সামনে আনলেন সাকিব-মুশফিকদের অভিজ্ঞতার কথাও, ‘‘আমাদের অ্যাডভান্টেজ আমি মনে করি ব্যাটসম্যানরা। মুশফিক, সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ ওরা কিন্তু এটা নিয়ে চারটা বিশ্বকাপ খেলবে। এবং ওরা কিন্তু বেষ্ট টাইমে আছে। ওরা যদি সেরাটা দিতে পারে, ওদের দিনে একাই ম্যাচ জেতাতে পারে ওরা।’’
৩০ মে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।