হকি নির্বাচন

শেষ মুহূর্তের হিসাব নিকাশে ব্যস্ত দুই পক্ষ

আজ বাদে কাল হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন নির্বাচন। ১৯৯৬ সাল থেকে এই ফেডারেশনে নির্বাচনের চল শুরু হলেও আক্ষরিক অর্থে এই ফেডারেশনে কখনোই এর চর্চা হয়নি। আগেভাগেই সমঝোতার ভিত্তিতে হয়ে যেত নির্বাচিত কমিটি। এর বাইরে দীর্ঘ সময় অ্যাডহক কমিটির অধীনেও চলেছে এই জাতীয় ফেডারেশন। এবারই প্রথম সত্যিকারের নির্বাচন যাকে বলে সেটা হতে যাচ্ছে আগামী সোমবার। দু’টি পক্ষ নিয়ে পুরোপুরি সক্রিয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ৮৪ জন কাউন্সিলরের ভোটে নির্ধারিত হবে আগামী চার বছর খেলাটাকে এগিয়ে নেবেন কারা। ৫টি সহ-সভাপতি, ১টি সাধারণ সম্পাদক, ২টি যুগ্ম সম্পাদক, ১টি কোষাধ্যক্ষ এবং ১৯টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদ মিলিয়ে মোট ২৮টি পদে সর্বমোট ৫৩ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নামবেন সেদিন। এর আগে গতকাল রাত পর্যন্ত চলেছে শেষ মুহূর্তের হিসাব নিকাশ।

এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে দু’টি পক্ষ। একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক। অন্য পক্ষটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান অস্থায়ী কমিটির সহ-সভাপতি এবং আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি এ. কে. এম. মমিনুল হক সাঈদ। প্রকারান্তরে এই নির্বাচনকে বলা যেতে পারে মুখোমুখি লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে আবাহনী এবং মোহামেডান। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে নির্বাচন করলেও সাদেকের সঙ্গে আবাহনীর সম্পর্ক প্রগাঢ়। অন্যদিকে সাঈদ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ঢাকার ক্লাবগুলোর বেশিরভাগের সমর্থন পেয়েছেন সাঈদ। অন্যদিকে বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো সমর্থন নিয়ে এগুচ্ছেন সাদেক পরিষদ।

শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত দু’পক্ষ জয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। সাদেক নেতৃত্বাধীন পরিষদের হয়ে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করতে যাওয়া সাজেদ এ. এ. আদেল বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে সবদিক দিয়ে আমরা প্রস্তুত। আমরা আশা করছি, পূর্ণ পরিষদে নির্বাচিত হব।’ আর সাঈদ পরিষদের সহ-সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদ শিকদার বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আশা করছি, কাউন্সিলরদের রায়ে আমরা নির্বাচিত হব।’