সাগরে ফণা তুলছে ‘ফণি’ বন্দরে সতর্কতা

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’তে পরিণত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টা নাগাদ এটি বাংলাদেশ উপকূল থেকে প্রায় ১৯০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টির কারণে দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে দ্ইু নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন গতকাল রাত ৯টার দিকে দেশ রূপান্তরকে জানান, ঘূর্ণিঝড়টি এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। এটি বাংলাদেশে আঘাত হানলেও ৩ মের আগে সম্ভাবনা কম। তবে ১-২ মে এটি ভারতে আঘাত হানতে পারে।

এদিকে সাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি দেশের অভ্যন্তরের তাপমাত্রায়। গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও গতকাল ফের বেড়েছে। এদিন খুলনা ও যশোরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণির কোনো প্রভাব এখনো দেশের তাপমাত্রায় পড়েনি। আগামী দু-তিন দিন তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ৩ মে’র দিকে ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলের দিকে অগ্রসর হলে তাপমাত্রা কমতে পারে। মৌসুমের স্বাভাবিক কারণেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নয়।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ সম্পর্কে অধিদপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এটি গতকাল বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯৩৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৫৫ কিলোমিটার, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯২৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটর, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও। আগের দিনের ২১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১ ডিগ্রি বেড়ে এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল গোপালগঞ্জে ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন যশোর ও সিলেটসহ কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের খবরও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। আশঙ্কা রয়েছে শিলাবৃষ্টিরও। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।