সভায় প্রধান বিচারপতি

বিচারপ্রার্থীরা যেন স্বল্পব্যয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার পান

বিচারপ্রার্থীরা যেন স্বল্পব্যয়ে ও দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। একই সঙ্গে মামলাজট নিরসনে এক মাসের মধ্যে বিচারপতিদের নিয়ে বসবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘লক্ষ রাখতে হবে, বিচারপ্রার্থীগণ যেন স্বল্পব্যয়ে ও দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার লাভ করেন। মামলাজট নিরসনে শুধু বিচারক বাড়ানো ও অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক মামলা ব্যবস্থাপনা।’

গতকাল শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘ন্যাশনাল জাস্টিস অডিটের ফলাফল উপস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল রিফর্ম কমিটি ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন বাংলাদেশ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী।

জনসংখ্যা ও বিচারাধীন মামলার অনুপাতে বিচারকসংখ্যার অপ্রতুলতাকে মামলাজটের কারণ বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘বিচারক-সংকট, অবকাঠামোগত অপ্রতুলতাকে মামলাজটের অন্যতম কারণ মনে হলেও শুধু বিচারক বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে এ অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। সঠিক মামলা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আমাদের দুটি ধাপে কাজ করতে হবে। প্রথমত, মামলা দায়েরের পূর্ববর্তী সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থায় মামলা দায়েরের হার যাতে কম হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, মামলা দায়ের-পরবর্তী সময়ে প্রতিটি পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বল্পব্যয়ে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।’ বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ লোককে মাত্র ১০ জন বিচারক সেবা দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্বল্প খরচে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, বিকল্প পদ্ধতিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থায় নতুন মামলার অন্তর্ভুক্তি হ্রাস করা মামলা ব্যবস্থাপনার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’ 

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থায় নতুন মামলার অন্তর্ভুক্তি রোধে বিকল্পভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচলিত আইনি বিধানাবলি আরও সূক্ষ্মভাবে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, আদালতের জটবদ্ধ পুরনো মামলাগুলো যাতে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হবে।’

জাস্টিস অডিটের তথ্যমতে,  ৬৮ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী। অর্থাৎ মাত্র ১৩ শতাংশ বিচারপ্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার দ্বারস্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে ৩৪ লাখ মামলার জট তৈরি হয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে ব্যবস্থার জন্য যথাযথ বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়।