দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের পাশে বাস ও ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের সেই নির্দেশনার আলোকে দেশের চারটি মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এসব বিশ্রামাগারে গাড়ি পার্কিং ও ওয়ার্কশপের সুযোগ থাকবে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এসব বিশ্রামাগারে অন্য গাড়ির চালকরাও ব্যবহার করতে পারেন। তবে ওয়ার্কশপের সুবিধা বাতিল করার সুপারিশ করেছে তারা।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও খুলনা এই চার জাতীয় মহাসড়কের পাশে গাড়িচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধাসহ বিশ্রামাগার স্থাপনের প্রস্তাব এসেছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০২০ সাল নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকচালকরা কিছু দূর পরপর যাতে বিশ্রাম নিতে পারেন, সে জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে হবে। এটি হলে কিছু সময়ের জন্য চালকরা বিশ্রাম নিতে পারবেন। তাদের মন প্রফুল্ল থাকবে। এ জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে এসব বিশ্রামাগার নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরিপালন করতেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। দেশের চারটি মহাসড়কে এই বিশ্রামাগারগুলোয় চালকদের জন্য সব ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধান অঞ্জন কুমার বিশ^াস দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় ট্রাকচালকদের পাশাপাশি অন্য গাড়ির চালক ও যাত্রীরা যাতে এসব বিশ্রামাগারের সুবিধা ভোগ করতে পারেন তার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। বিশ্রামাগারগুলোয় খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান রাখার কথাও বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব বিশ্রামাগারে ওয়ার্কশপ না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ওয়ার্কশপ থাকলে সারা বছর ওয়ার্কশপ হিসেবেই ব্যবহার হবে। আসল উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন।
পিইসি সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩.৭০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। ২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় এসব ভূমির উন্নয়ন হবে। ১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা চারটি ভবন হবে। এ ছাড়া ভূমির সবুজায়নে ৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, আরসিসি পিলারসহ ড্রেন নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন এর সব কটিতেই ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান প্রধান সড়কে যাতায়াতকারী বাস ও ট্রাকচালক এবং যাত্রীদের স্বল্প বিরতি নেওয়ার মতো ব্যবস্থা থাকলেও চালকদের বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক সময় ট্রাকচালকরা রাস্তার পাশে ট্রাক থামিয়ে বিশ্রাম নেন। এতে একদিকে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে বিশ্রামের চিন্তায় দ্রুত গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন চালকরা। ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে একজন চালকের টানা ৫ ঘণ্টার বেশি যানবাহন না চালানোর নিয়ম রয়েছে। এর বেশি চালানোর প্রয়োজন হলে মাঝবিরতিতে বিশ্রাম নেওয়ার নিয়ম। এ জন্য প্রস্তাবিত এসব বিশ্রামাগারে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা, ওয়াশরুম, রাত্রীযাপনের সুব্যবস্থা, বিনোদনের জন্য টিভি, চা-কফি ও পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হবে, যেন তারা মন সজীব-সতেজ করতে পারেন।