মরুর খেজুরগাছ সারা দেশে ছড়াতে চান জীবন আলী

সৌদি আরবের খেজুরগাছ বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন জীবন আলী। তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সম্ভুপুরা ইউনিয়নের কাজিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। ১৫ বছর সৌদি আরবের আল-মাসানায় খেজুর বাগানে কাজ করার সুবাদে বাংলাদেশে খেজুর বাগান করতে আগ্রহী হন।

৫০ বছর বয়সী জীবন আলী বছর-পাঁচেক আগে সৌদি আরব থেকে ফিরে সময় কাটাচ্ছেন নিজ গ্রামে দুই বিঘা জমির ওপর গড়া খেজুরগাছের নার্সারি পরিচর্যা করে। তিন সন্তানের জনক জীবন আলী প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে না পারলেও সেখানে খেজুর বাগানে কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন খেজুরগাছের একটি নার্সারি।

বৃক্ষপ্রেমী জীবন আলী বলেন, ‘সৌদি আরবে কাজ করার সময়ই আমি পরিকল্পনা করেছিলাম দেশে একটি খেজুরগাছের নার্সারি করব। খেজুর বাগানে কাজ করেছি, বাগানের পরিচর্যা সম্পর্কে আমার অনেক কিছুই জানা। আমি সৌদি আরব থেকে খেজুরের বীজ নিয়ে দেশে এসে নার্সারির কাজ শুরু করি। বর্তমানে আমার লাগানো বীজ থেকে জন্মানো বেশির ভাগ চারার বয়স চার বছর। অন্তত দশ বছর বয়স হলে খেজুরগাছে ফলন শুরু হবে।’

সম্প্রতি সরেজমিনে জীবন আলীর নার্সারিতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। তার নার্সারিতে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি বিভিন্ন জাতের খেজুরগাছের চারা রয়েছে। প্রতিটি চারার দাম দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। মরিয়ম, এখলাস, শুক্কারি, ডেকলেট নূর, আল-খুদরিসহ বিভিন্ন জাতের খেজুরগাছের চারা আছে তার নার্সারিতে। জীবন আলী শুধু একজন বৃক্ষপ্রেমীই নন, সংস্কৃতিমনাও। আপন খেয়ালেই তিনি গান রচনা করে সুর তুলে গান গান। ঘরে আছে একতারা, দোতারা, বাঁশি, হারমোনিয়ামসহ নানা বাদ্যযন্ত্র।

জীবন আলী বলেন, খেজুর বাগান করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এ ছাড়া খরচও অনেক বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশে সৌদি আরবের খেজুর ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিকা আক্তার বলেন,  জীবন আলীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।